Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

একটি ফোন কলে এখন রায়হানের পরিবারে কান্নার রোল

Icon

মো. সরওয়ার শিকদার, নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ)

প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬, ১০:৪২ পিএম

একটি ফোন কলে এখন রায়হানের পরিবারে কান্নার রোল

লিবিয়ায় আটক রায়হান চৌধুরী (মাঝে)

একটি ফোন কলে এখন লিবিয়াতে নিখোঁজ রায়হানের বাড়িতে পরিবারে কান্নার রোল। তারা বলছে- এ নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি না করার জন্য। শামীমের বাবা নজরুলের জামিনে বাঁধা না দিতে। অন্যথায় ‘রায়হানকে হত্যা করে লাশ সাগরে ভাসিয়ে দেব’।

গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় লিবিয়ায় আটক রায়হান চৌধুরীর বাবা আবু তাহের চৌধুরীকে ফোন করেন মানবপাচার চক্রের সদস্য শামীম ও রাকিব। তারা বলেন- তোমার পুত্রকে পেতে চাইলে আগামী ১১ মে মানবপাচার মামলার প্রধান আসামি নজরুল ইসলামের জামিন শুনানি হবে হবিগঞ্জ জেলা দায়রা জজ আদালতে। ওই জামিন শুনানিতে বাধা প্রদান না করতে তাকে বলা হয়।

সোমবার সকালে হবিগঞ্জ জেলা জজ আদালত থেকে প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা মামলার বাদী আবু তাহের চৌধুরীকে জামিন শুনানিতে থাকার জন্য চিঠি প্রেরণ করা হয়। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে- আসামির জামিনে যেতে তার কোনো আপত্তি থাকলে আদালতে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য প্রদান করার জন্য। এই চিঠি পাওয়ার পরেই ফোন আসে সোমবার সন্ধ্যায়।

নবীগঞ্জের যুবক রায়হান চৌধুরীকে (৩০) ইতালিতে পাঠানোর কথা বলে লিবিয়ায় আটকে রেখে ২৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের পরও ছেড়ে দেওয়া হয়নি, বরং আবারও ২৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দেওয়ার জন্য মারপিট করে হাতের আঙ্গুল কেটে দিয়ে বলছে হাতের কবজি কাটা হবে। এখন নির্যাতন করার পর গত দুই মাস ধরে সে নিখোঁজ রয়েছে। এমন অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যরা।

ওই দালাল চক্রের বিরুদ্ধে মানবপাচার আইনে মামলা করে বিপাকে পড়েছেন এমন অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার। গত বৃহস্পতিবার মানবপাচার মামলার প্রধান আসামি গোপনে জামিন নেওয়ার চেষ্টা করলে আদালত তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করেছেন।

এ বিষয়ে মামলার বাদী আবু তাহের চৌধুরী বলেন, আমি মামলা করে বিপদে পড়েছি। আমি এখন আমার ছেলের কোনো সন্ধান পাচ্ছি না। রোববার আদালতের চিঠি পাওয়ার পরই দালাল ও মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যরা ফোন করে আমি বাড়াবাড়ি না করতে বলেছে। তারা বলছে এ নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি না করার জন্য। শামীমের বাবা নজরুলের জামিনে বাঁধা না দিতে। অন্যথায় রায়হানকে হত্যা করে লাশ সাগরে ভাসিয়ে দেবে।

তিনি আরও বলেন, যুগান্তরে রায়হানের নিউজ প্রকাশের পর দালাল রাকিব ও শামীম আবারো ফোন করেছে তারা বলছে এসব বিষয়ে মিডিয়ায় কেন প্রচার করলাম পরিণাম ভালো হবে না।

এদিকে সোমবার বিকালে মানবপাচাররোধ ঢাকা সিআইডি এন্ট্রি ট্রেকিং মনিটরিং সেল থেকে এসপি কাওসার আহমদ বলেন, আমরা যুগান্তরের নিউজ পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে তিনি মামলার বাদী আবু তাহের চৌধুরীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। তার কাছে জবানবন্দি নেন কিভাবে আসামিদের বিরুদ্ধে বিদেশে নেওয়া যায় ও দেশে যারা আছে তারা যেন বিদেশে পালিয়ে না যায় তাদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান।

তিনি যুগান্তরকে জানান, আমরা এখনো মামলার নথিপত্র পাইনি। আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ শুরু করেছি। আসামিরা যাতে দেশের বাহিরে পালিয়ে না যায়। যারা বিদেশে আছে তাদের ব্যাপারেও কাজ করছি।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .