পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে ছিনিয়ে নেওয়া যুবদল নেতাকে বহিষ্কার
যুগান্তর প্রতিবেদন, নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬, ১০:০৭ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হত্যা, চাদাঁবাজি ও মাদকসহ এক ডজনের বেশি মামলার পলাতক আসামি শামীম মিয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তার অনুসারীরা পুলিশকে পিটিয়ে আহত করে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
এ ঘটনার পর ওই নেতাকে বহিষ্কার করেছে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি।
সোমবার রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের চনপাড়া (বস্তি) পুনর্বাসন কেন্দ্র এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
এ সময় শামীম মিয়ার সহযোগীদের হামলায় বেশ কয়েকজন পুলিশ আহত হয়েছেন।
সন্ত্রাসী শামীম মিয়াকে ছিনিয়ে নেওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্র এলাকায় ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে শামীম মিয়ার স্ত্রী সাথী আক্তারসহ ১২ জনকে আটক করে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে রূপগঞ্জ থানার ওসি এএইচএম সালাউদ্দিন জানান, পুলিশ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১২ জনকে গ্রেফতার করেছে। ছিনিয়ে নেওয়া শামীমকে গ্রেফতার করতে পুলিশ কাজ করছে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শামীম মিয়াকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির নেতারা।
পেশিশক্তি প্রদর্শনপূর্বক রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাঁধা প্রদান দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকায় তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
এতে বলা হয়, বহিষ্কৃতদের কোনো ধরনের অপকর্মের দায়-দায়িত্ব দল নেবে না। যুবদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তাদের সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনা প্রদান এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে উক্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রাজধানীর ডেমড়ার পাশে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের চনপাড়া বস্তি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বস্তিটির নামকরণ করা হয় চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্র। এলাকাটি অপরাধীদের স্বর্গরাজ্য হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। এখানে বছরের পর বছর হত্যা, মাদক ও অস্ত্র ব্যবসাসহ নানা ধরনের অপরাধ সংগঠিত হয়ে আসছে। রাজধানীতে অপরাধ সংগঠিত করে অপরাধীরা চনপাড়া বস্তিতে এসে নিরাপদ আশ্রয় গ্রহণ করে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে সরকার পরিবর্তনের পর দলীয় প্রভাব খাটিয়ে শামীম মিয়া বস্তি নিজের দখলে নিয়ে মাদক কারবারের চ্যানেল তৈরি করে। এখানে বসেই তিনি রাজধানীসহ আশপাশের মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ করতেন।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম বলেন, পুলিশের অভিযানের অংশ হিসেবে মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারসহ ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেফতার করতে পুলিশ চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্র এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। সেখানে অবস্থান করা শামীম মিয়াকে পুলিশ গ্রেফতার করলে শামীমের অনুসারীরা পুলিশের উপর মব সৃষ্টি করে নিয়ে যায়।
পরে পরে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সেখানে গিয়ে শামীমের স্ত্রীসহ ১২ জনকে আটক করে। শামীম মিয়ার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মাদক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর হামলা সহ বিভিন্ন ঘটনায় ডজন খানেক মামলা রয়েছে। এছাড়া কয়েকটি মামলায় তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই পলাতক আসামীকে পুলিশ খুঁজছিল।
এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ থানার ওসি এএইচএম সালাউদ্দিন জানান, পুলিশের উপর হামলা করে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী শামীম মিয়াকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় এসআই ইউনুস আলী বাদী হয়ে ৪০ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ২০০ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন।
