Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে শ্রমিক দল নেতার সংবাদ সম্মেলন

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন, আমতলী (বরগুনা)

প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬, ০৭:৫৩ পিএম

বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে শ্রমিক দল নেতার সংবাদ সম্মেলন

বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে শ্রমিক দল নেতার সংবাদ সম্মেলন

আমতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. জালাল উদ্দিন ফকিরের বিরুদ্ধে পৌর শ্রমিক দল সভাপতি মিল্টন হাওলাদারকে মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলায় আসামি করে জেলহাজতে পাঠানোর অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন উপজেলা শ্রমিক দল সভাপতি ও যান্ত্রিকযান থ্রি-হুইলার মালিক সমিতির সভাপতি মো. তারিকুল ইসলাম সোহাগ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে আমতলী উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে শতাধিক শ্রমিক নেতা ও চালকদের উপস্থিতিতে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে উপজেলা শ্রমিক দল সভাপতি মো. তারিকুল ইসলাম সোহাগ বলেন, শেখ হাসিনার পতনের পর থ্রি-হুইলার ও সিএনজি স্ট্যান্ড দখলে নেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জালাল উদ্দিন ফকিরের ছেলে রাহাত ফকির। তখন থ্রি-হুইলার ও সিএনজি থেকে মোটা অংকের চাঁদা আদায় করেন রাহাত। গত দেড় বছর চলে রাহাতের প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি। কেউ প্রতিবাদ করলেই তাকে মারধর ও লাঞ্ছিত করা হতো।

তিনি বলেন, গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে খুলনা শ্রম অধিদপ্তর থেকে থ্রি-হুইলার ও সিএনজির মালিক সমিতির নিবন্ধন আনা হয়। এতে সিএনজির মালিক সমিতির সভাপতি করা পৌর শ্রমিক দল সভাপতি মো. মিল্টন হাওলাদারকে। ওই সময় থেকেই থ্রি-হুইলার ও সিএনজি মালিক সমিতির নেতারা সরকারি নিয়ম মেনে থ্রি-হুইলার ও সিএনজি পরিচালনা করে আসছেন; কিন্তু এতে ক্ষুব্ধ হন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. জালাল উদ্দিন ফকির। তিনি ও তার ছেলে রাহাত ফকির প্রায়ই থ্রি-হুইলার ও সিএনজি চালাতে বাধা দিতেন।

তারিকুল ইসলাম সোহাগ বলেন, গত মঙ্গলবার সিএনজি মালিক সমিতির সভাপতি মো. মিল্টন হাওলাদার বাসা থেকে বের হয়ে সিএনজি স্ট্যান্ডে যায়। এমন সময় উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. জালাল উদ্দিন ফকির তার দলবল নিয়ে অহেতুক মিল্টন ও সুমনকে ধরে চাঁদাবাজ আখ্যা দিয়ে পুলিশে দেয়। পরে জালাল ফকিরের সহযোগী মো. আমিরুল ইসলামকে বাদী করে আমতলী থানায় একটি মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা সাজিয়ে মিল্টনকে জেলহাজতে পাঠায়।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জালাল উদ্দিন ফকিরের ছেলে রাহাত ফকির একজন ডাকাত ও চিহ্নিত সন্ত্রাসী। শেখ হাসিনার পতনের পর থ্রি-হুইলার ও সিএনজি থেকে মাসিক থানার নাম করে এক হাজার ৫শ টাকা চাঁদা তুলে আসছে। এছাড়া থ্রি-হুইলার ও সিএনজি সড়কে চলতে হলে তাকে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হয়েছে। তার ছেলে রাহাত ফকিরের এমন চাঁদাবাজি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে মিল্টন ও সুমনকে চাঁদাবাজ সাজিয়ে মিথ্যা মামলায় জেলে দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, জালাল ফকির তার ছেলের সব অপরাধে প্রকাশ্যে সহযোগিতা করছেন।

সিএনজি মালিক ও আমতলী পৌর শ্রমিক দল সভাপতি মিল্টন হাওলাদার ও সুমনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও জেলহাজত থেকে মুক্তির দাবি জানান তিনি।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- মঞ্জুরুল কবির, নিজাম হাওলাদার, খলিল মীর, টিটু, রুবেল আকন, অসীম মৃধা ও নজরুল ইসলামসহ শতাধিক শ্রমিক দল নেতা, থ্রি-হুইলার ও সিএনজি চালকরা।

আমতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. জালাল উদ্দিন ফকির তার সংশ্লিষ্টতার কথা অস্বীকার করে বলেন, পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন এসে মিল্টনকে হাতেনাতে টাকাসহ ধরেছে। তারাই আইনি ব্যবস্থা নিয়েছেন। মিল্টনের বিরুদ্ধে আমি কিছুই করিনি।

আমতলী থানার ওসি আবু সাহাদাৎ মো. হাচনাইন পারভেজ বলেন, মামলা তদন্তাধীন আছে। অহেতুক কাউকে হয়রানি করা হবে না।

তিনি আরও বলেন, যে কেউ সংবাদ সম্মেলন করে নির্দোষ দাবি করার অধিকার আছে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .