|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নীলফামারীর সৈয়দপুরের বাজারে অপরিপক্ব আমে সয়লাব হয়ে গেছে। গত ১০ দিন থেকে মেডিসিন দিয়ে পাকানো অপরিপক্ব আম পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করলেও উপজেলা প্রশাসন তা দেখেও দেখছেন না। ফলে আঠাযুক্ত আম খেয়ে পেটের পীড়ায় ভুগছেন সাধারণ মানুষ।
সরেজমিন দেখা গেছে, মেডিসিন মিশ্রিত হলুদ সবুজ রঙের আম থরে থরে সাজিয়ে রেখেছেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা। নতুন আম বলে দামও হাঁকাচ্ছেন তারা। খুচরা ব্যবসায়ীরা ওসব কিনে তা বিক্রিও করছেন দ্বিগুণ দামে। স্বাভাবিকভাবে ওসব আম পাকা মনে হলেও আমের আঁটি রয়েছে কাঁচা।
এম এ করিম মিস্টার নামে এক ক্রেতা জানান, সৈয়দপুর শহরের ১নং রেল ঘুমটি সংলগ্ন গিয়াস ফলভাণ্ডার থেকে গত তিন দিন আগে পাঁচ কেজি আম কিনেছেন তিনি। কিন্তু বাড়িতে গিয়ে আমগুলো কাটতেই টক ও আঠার গন্ধ বেরিয়ে পড়ে এবং আঁটিও কাঁচা। সামান্য এক ফালি আম খেয়েই শুরু হয়েছে পেটের সমস্যা।
তবে পাইকারি ব্যবসায়ী গিয়াস বলছেন, আমে কোনো সমস্যা নেই। পরিপক্ব বা অপরিপক্ব তা তার দেখার বিষয় নয়। রাজশাহী ও নাটোরের মোকাম থেকে অনুমতিপত্র নিয়েই তিনি আম বিক্রি করছেন। উপজেলা প্রশাসন তার বিরুদ্ধে কিছুই করার শক্তি বা ক্ষমতা রাখেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়জন আড়তদার জানান, আম পাকার এখনো বেশ কিছু দিন বাকি। কিন্তু বেশি লাভের আশায় আড়তদার গিয়াস ওসব অপরিপক্ক আম বিক্রি করে চলেছেন। তার কারণে বাকি আড়তদারদেরও বদনাম হচ্ছে। প্রশাসনকে এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীমান ভূষণ জানান, দেশের কোথাও এখনো আম পাকেনি। আগামী ১৫ দিন পর থেকে আম পাকা শুরু হতে পারে। আড়তদাররা যেসব পাকা আম বিক্রি করছেন সেগুলো পরিপক্ব নয়। এসব আম খেলেই পেটের নানান সমস্যা হতে পারে।
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ওয়াসিম বারি জয়ও একই কথা জানান। তিনি বলেন, মেডিসিন দিয়ে পাকানো অপরিপক্ব আম খেলে পেটের পীড়া হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ডাইরিয়া হওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ।
এ বিষয়ে উপজেলা কমিশনার (ভূমি) সাব্বির আলম বলেন, ২-১ দিনের মধ্যেই অভিযানে নামা হবে। আঠাযুক্ত অপরিপক্ব আম পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
