Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

বিধবা নারীকে কুপ্রস্তাব স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার, বিদ্যুৎ–পানি বিচ্ছিন্ন করে মানবেতর জীবনে বাধ্য!

Icon

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬, ০৪:৩৩ পিএম

বিধবা নারীকে কুপ্রস্তাব স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার, বিদ্যুৎ–পানি বিচ্ছিন্ন করে মানবেতর জীবনে বাধ্য!

আবুল কাশেম হারুন। ফাইল ছবি

এক বিধবা নারীকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আবুল কাশেম হারুন নামে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন সেচ্ছাসেবক লীগের এক নেতার বিরুদ্ধে। 

ওই নারীকে শারীরিক নির্যাতন, হত্যার হুমকি এবং বিদ্যুৎ–পানি বিচ্ছিন্ন করে মানবেতর অবস্থায় রাখার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় গত ৯ মার্চ, ছাতক উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানা পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী জেসমিন আক্তার। 

অভিযোগে আবুল কাশেম হারুনকে প্রধান করে নিলয় ও মনি বেগমকেও আসামি করা হয়েছে। অভিযোগ দাখিলের ২ মাস পরেও পুলিশ কোনো তদন্ত শুরু করেনি বলে জানা গেছে। 

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ১১ মে, ২৫ ডিসেম্বর এবং ২০২৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯ ফেব্রুয়ারি ও ৯ মার্চ—বিভিন্ন সময় আবুল কাশেম হারুন নিজের ছোটো চাচি জেসমিন আক্তারের ঘরে প্রবেশ করে তার গায়ে জোরপূর্বক হাত দেন এবং তাকে কুপ্রস্তাব দেন। তার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ভুক্তভোগীকে বিভিন্ন সময়ে— ‘মারধর, ভয়ভীতি, গুম করে ফেলবো, হত্যা করবো, পতিতালয়ে বিক্রি করে দেব’— এমন হুমকি নিয়মিত দিতে থাকেন। 

জেসমিন আক্তারের দাবি, আবুল কাশেম হারুনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর প্রতিশোধ হিসেবে বসত ঘরের বিদ্যুৎ লাইন কেটে দেওয়া হয়, সুপেয় পানির সংযোগ বন্ধ করা হয়, তাকে এক প্রকার অবরুদ্ধ মানবেতর জীবনে ফেলে হয়। 

স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই নির্যাতনের শিকার উল্লেখ করে অভিযোগে আরও বলা হয়। ভুক্তভোগী জেসমিন আক্তার হচ্ছেন প্রয়াত আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব শাহ মো. লিয়াকত আলী খানের স্ত্রী। ২০২৫ সালের ১১ মে লিয়াকত আলী মারা যান। এর মাত্র ৪০ দিনের মধ্যেই কোনো পুরুষ অভিভাবক না থাকার সুযোগে তার ভাতিজা হারুনের কুদৃষ্টি পড়ে তার ওপর। এরপর থেকেই তিনি নানামুখী অত্যাচার, হুমকি ও নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছেন। গ্রামবাসী বা স্থানীয় জন প্রতিনিধিদের কাছে বিচার চাইতে গেলে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে। 

এ বিষয়ে আবুল কাসেম হারুনের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

ছাতক থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, ইউএনও বাদী-বিবাদী দুই পক্ষকে নিয়ে চেয়ারম্যানকে বসার নির্দেশ দিয়েছেন। পরে দুইপক্ষের বক্তব্য ইউএনওকে জানানোর কথা বলা হয়েছে।  

ছৈলা আফজলাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজাদ মিয়া অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ২ মের পর থেকে ইউএনওর নির্দেশে আসামিকে একাধিক নোটিশ দেওয়া হয়। তিনি কার্যালয়ে আসেননি। 

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .