Logo
Logo
×
   

Advertisement

সারাদেশ

এক্সপ্রেসওয়েতে চার দিনে নিহত ৬, সবাই ট্রাকের চালক-হেলপার

Advertisement

Icon

জাহিদ রিপন, ফরিদপুর ব্যুরো

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬, ০৮:৫৩ পিএম

এক্সপ্রেসওয়েতে চার দিনে নিহত ৬, সবাই ট্রাকের চালক-হেলপার

দুর্ঘটনা

Advertisement

ফরিদপুরের ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের আতাদি ফ্লাইওভারে গাছভর্তি ট্রাকে মাছবাহী ট্রাকের ধাক্কায় চালক-হেলপার নিহত হয়েছেন। সোমবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকামুখী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা মাছবাহী ট্রাকের চালক ও হেলপার বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ নিয়ে গত চার দিনে এক্সপ্রেসওয়েতে মোট ৬ জন চালক-হেলপারের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। সবাই ট্রাকের চালক ও হেলপার।

একদিকে এক্সপ্রেসওয়েতে চাকা পাংচার হওয়া গাড়ি মেরামত করা এবং অন্যদিকে ঘুম চোখে দ্রুতগতিতে গাড়ি চালনাকে দায়ী করছেন হাইওয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসসহ সচেতন মহল। 

সোমবার নিহতদের মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি যশোর সদরের চাচড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. শামিম (৩০)। তিনি মাছবাহী ট্রাকটির চালক ছিলেন। অপর নিহত হেলপারের (২৮) পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকাগামী গাছের চারাবোঝাই একটি ট্রাক ভাঙ্গা উপজেলার আতাদি ফ্লাইওভারের ওপর ধীরগতিতে চলছিল। এ সময় পেছন থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি মাছবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে মাছের ট্রাকটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই চালক ও হেলপার নিহত হন। খবর পেয়ে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে এবং দুর্ঘটনাকবলিত দুটি ট্রাক জব্দ করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার এসআই সোহেল খান জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। এক্সপ্রেসওয়েতে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

এদিকে গত চার দিনে ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে একইভাবে ৬ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। গত ১৪ মে লালমনিরহাট সদরের বৈরাগী এলাকার শিশির রায়ের পুত্র পিকআপচালক প্রবীর রায় (৩৬) ও পিকআপের অজ্ঞাতনামা এক হেলপার (১৮), ১৬ মে যশোর সদর উপজেলার রুপদিয়া এলাকার বাসিন্দা হেলপার ইউসুফ আলী (৫০) ও তার ছেলে চালক ইয়াকুব আলী (২৬), ও ১৮ মে যশোর সদরের চাচড়া গ্রামের বাসিন্দা মাছবাহী ট্রাকের চালক মো. শামিম (৩০) ও ট্রাকটির অজ্ঞাত হেলপারের (২৮) মৃত্যু ঘটে।

এক্সপ্রেসওয়েতে নষ্ট গাড়ি মেরামতর কাজ করার সময় বেপরোয়া গতির যানবাহনের সঙ্গে দুর্ঘটনাগুলো ঘটে। এ বিষয়গুলো খেয়ার রাখার জন্য হাইওয়ে পুলিশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল। এছাড়া এক্সপ্রেসওয়ের যেসব স্থানে দ্রুতগতিতে যানবাহন চলাচল করে সেখানে পুলিশি টহল জোরদার ও বৃদ্ধি করার দাবি জানানো হয়।  

এ বিষয়ে ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার আবু জাফর মিয়া  জানান, ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েটি একটি ব্যস্ততম মহাসড়ক, গত চারদিনে একই কায়দায় ছয়জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে তাদের সবার গাড়ির চাকা পাংচার হলে পেছনের চালকদের অসচেতনতার জন্য সামনের দাঁড়ানো গাড়িকে চলন্ত মনে করে এ দুর্ঘটনাগুলো ঘটছে। সব দুর্ঘটনা রাতে ঘটছে চালকরা ঘুমের ঝিমটিতে দাঁড়ানো গাড়িকেও চলন্ত মনে করে পেছনে ধাক্কা দেয়, এটা চালকদের অসাবধানতা। একমাত্র চালকদের সতর্ক ছাড়া দুর্ঘটনা রোধ করা কঠিন।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম