Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

কারাগারে থাকা শাহজাদপুরের সেই পিআইওকে বরখাস্ত

Icon

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬, ০৯:১৯ পিএম

কারাগারে থাকা শাহজাদপুরের সেই পিআইওকে বরখাস্ত

দুদকের দায়ের করা দুর্নীতির মামলায় কারাগারে থাকা সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আবুল কালাম আজাদকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে মন্ত্রণালয়।

গত ৭ মে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব সাইদুর রহমান খান স্বাক্ষরিত পত্রে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বিষয়টি এতদিন গোপন রাখা হয়েছিল।

বুধবার (২০ মে) দুপুরে বিষয়টি জানাজানি হয়। পরে সিরাজগঞ্জ ডিআরআরও এর সত্যতা স্বীকার করে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ওই পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে- দুদকের মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকায় আবুল কালাম আজাদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। এ মামলার বিচার কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি বিধি মোতাবেক খোরপোষ ভাতাদি প্রাপ্য হবেন। ৪ মে গ্রেফতারের দিন থেকে এ আদেশ কার্যকর হবে। এর আগে ৩ মে রাতে পাবনার নিজ বাসা থেকে দুদকের একটি টিম তাকে গ্রেফতারের পর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

আবুল কালাম আজাদ তিনবারে দীর্ঘ ১৪ বছর শাহজাদপুর উপজেলায় পিআইও হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

এ প্রসঙ্গে বুধবার (২০ মে) দুপুরে সিরাজগঞ্জ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল বাছেদ বলেন, বিষয়টি আমরা আগেই মৌখিকভাবে জেনেছিলাম কিন্তু অফিশিয়াল চিঠি আজই পেয়েছি।

মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে নামে দুদক। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৮ মে আবুল কালাম আজাদ, তার স্ত্রী মর্জিনা খাতুন ও ছেলে ফজলে রাব্বি রিয়নের বিরুদ্ধে সম্পদের হিসাব দাখিলের আদেশ দেয় দুদক। আবুল কালাম আজাদ ও তার পরিবারের সদস্যরা ৩ জুলাই সম্পদের হিসাব দাখিল করেন।

২০২৫ সালের ১১ মার্চ দুদকের সহকারী পরিচালক সাধন চন্দ্র সূত্রধর বাদী হয়ে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় পিআইও আবুল কালাম আজাদ ১ কোটি ৩২ লাখ ৪৬ হাজার টাকার জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠে; যা দুর্নীতি দমন কমিশন আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

তার স্ত্রী মর্জিনা খাতুন স্বামীর অবৈধ আয় দ্বারা ১ কোটি ৫৬ লাখ ৮৩ হাজার ৪৮৩ টাকা মূল্যের জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জন পূর্বক ভোগ দখলে রাখার প্রমাণ পায় দুদক; যা জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জনে প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করায় দুদক আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এছাড়াও ছেলে ফজলে রাব্বি রিয়নের বিরুদ্ধে বাবার অবৈধ ১ কোটি ১৫ লাখ ৩৬ হাজার ৯৪১ টাকা মূল্যের জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত সম্পদ ভোগদখলের অভিযোগ আনা হয়।

অপরদিকে পিআইও আবুল কালাম আজাদের শ্যালক জামাল উদ্দিন ফকিরের নামে অস্বাভাবিক সম্পদের তথ্য পায় দুদক কর্মকর্তারা। পরে ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর তার নামে সম্পদ বিবরণী নোটিশ জারি করা হয়। একই বছরের ৮ ডিসেম্বর ৩২ লাখ ৪৬ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর ও ১ কোটি ৩৩ লাখ ১১ হাজার ১৮২ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদ অর্জনের হিসাব দাখিল করেন তিনি।

অনুসন্ধানকালে জামাল উদ্দিন ফকিরের নামে ৩২ লাখ ৪৬ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর ও ১ কোটি ৫৯ লাখ ৪০ হাজার ১৮২ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য পায় দুদক। এরপর ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর দুদকের সহকারী পরিচালক সাধন চন্দ্র সূত্রধর বাদী হয়ে আরও একটি মামলা করেন। এতে শ্যালক জামাল উদ্দিন ফকিরকে প্রধান ও আবুল কালাম আজাদকে দ্বিতীয় আসামি করা হয়।

এ অবস্থায় ৩ মে রাতে দুদক পাবনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের একটি টিম পাবনার নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আবুল কালাম আজাদকে গ্রেফতার করেন। পরের দিন তাকে পাবনার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আবুল কালাম আজাদ পাবনার সুজানগর উপজেলার হাসামপুর গ্রামের শমসের আলীর ছেলে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .