Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

‘হয় তুমি নয় মৃত্যু’ লিখে জীবন দিলেন ভারতে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থী

Icon

মাদারগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬, ০৩:৫৮ পিএম

‘হয় তুমি নয় মৃত্যু’ লিখে জীবন দিলেন ভারতে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থী

মোস্তাক আহমেদ সাগর। ছবি: সংগৃহীত

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে মা-বাবা ও ভালোবাসার মানুষকে উদ্দেশ্য করে আবেগঘন পোস্ট দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন ভারতের দিল্লিতে পড়তে যাওয়া এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী।

শনিবার (২৩ মে) বিকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট দেওয়ার কিছুক্ষণ পর মোস্তাক আহমেদ সাগর (২৫) নামের ওই শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেন বলে জানিয়েছে তার পরিবার।

মোস্তাক আহমেদ সাগর জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের ঘুঘুমারি এলাকার মোশারফ হোসেন মিন্টুর ছেলে। তিনি ভারতের দিল্লির ফরিদাবাদ এলাকার মানব রচনা ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড স্টাডিজ এর কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।

ছেলের আত্মহত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মোশারফ হোসেন মিন্টু।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন সাগর। সেখানে তিনি বাবা-মায়ের কাছে ক্ষমা চেয়ে লেখেন, তিনি নিজেকে বাঁচানোর অনেক চেষ্টা করেছেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। একই পোস্টে তিনি তার ভালোবাসার মানুষের কথাও উল্লেখ করেন।

পোস্টে সাগর লেখেন, ‘মা বাবা আমায় মাফ করিও। নিজেকে অনেক বাঁচানোর জন্য যুদ্ধ করলাম, অবশেষে আজ আমি ক্লান্ত এবং চলে যাচ্ছি খোদার কাছে।

ঘরে ফিরে হয়তো বিজয় উৎযাপন করতে পারলাম না, কি দুর্ভাগা আমি। দেশের জন্য কতটুকু করতে পেরেছি জানি না। আমি শুধু আপনাদের কাছে দোয়া চেয়ে গেলাম। ভুল করে থাকলে মাফ করবেন।

জীবনে একটা চাওয়া খোদার কাছে প্রতিটা সময়ই চেয়েছি পেয়েও পায়নি। রাখার চেষ্টা করেও রাখতে পারিনি। আমি এতোটাই হতভাগা হয়ে জন্ম নিয়েছিলাম।

ভালো থাকুক ভালোবাসার মানুষটি, তার হাতে হয়তো হাত রেখে বেঁচে থাকার স্বপ্নটা পুরণ হলো না। কতো করে বুঝিয়েছি হলোই না। তাকে কথা দিয়েছিলাম হয় তুমি নয় মৃত্যু। তাকে কথা দেওয়াটা পূরণ করে তাকে মুক্তি দিলাম। তাকে কেউ দোষারোপ করবেন না, তাকে বাঁচতে দিয়েন আমার জন্য হলেও।

আর হ্যাঁ আমাকে যেনো পোস্ট-মর্ডান (পোস্টমর্টেম) না করা হয়, কারণ সে কষ্ট পাবে। আমাকে পারলে ঝামেলাহীন দাফন করে দিয়েন। কবরের দেওয়ালে লিখে দিয়েন ‘হতভাগা’

ভালো থেকে তুমি, তোমায় দেওয়া কথা পূরণ করলাম। কান্না করবে না বুঝছো৷ তোমার কান্না আমার সহ্য হয় না৷ তুমি আমার জন্য দুআ কইরো। 

বিদায় প্রিয় মানুষ, বন্ধু, বাবা-মা’

সাগরের বাবা বলেন, আমি হঠাৎ শুনি আমার ছেলে মারা গেছে। এটা আত্মহত্যা নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে, তা আমি জানি না। আমি সঠিক তদন্ত ও বিচার চাই। একই সঙ্গে সরকারের কাছে অনুরোধ, দ্রুত যেন আমার ছেলের লাশ দেশে আনার ব্যবস্থা করা হয়।

তার মা জানান, ঘটনার দিন দুপুরেও ছেলের সঙ্গে তার কথা হয়েছিল। তিনি বলেন, আমি জানতে চেয়েছিলাম, সে কী করছে। তখন সে বলেছিল বাসায় শুয়ে আছে। পরীক্ষার প্রস্তুতির কথাও হয়েছিল। এটাই ছিল আমার ছেলের সঙ্গে শেষ কথা।

এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ থানার ওসি স্নেহাশীষ রায় বলেন, বিষয়টি আমিও ফেসবুকে দেখেছি। ঘটনাটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .