Logo
Logo
×
   

Advertisement

সারাদেশ

গেটের তালা ভেঙে কলেজ মাঠে পশুর হাট বসালেন সাবেক ছাত্রদল নেতা

Advertisement

Icon

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬, ১০:৫৯ পিএম

গেটের তালা ভেঙে কলেজ মাঠে পশুর হাট বসালেন সাবেক ছাত্রদল নেতা

কলেজ মাঠে পশুর হাট

Advertisement

কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী সরকারি ডিগ্রি কলেজের ফটকের তালা ভেঙে মাঠে পশুর হাট বসিয়েছেন জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সমাজসেবা সম্পাদক জিহাদ ফেরদৌস চমক।

কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি না মিললেও পেশিশক্তি ব্যবহার করে কলেজ মাঠে পশুর হাট বসানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (২৪ মে) দুপুরে কলেজ গেটের তিনটি তালা ভেঙে মাঠে বাঁশের খুঁটি বসিয়ে হাট শুরু করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন কলেজটির অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মজিবল হায়দার চৌধুরী।

জিহাদ ফেরদৌস চমক জেলা ছাত্রদলের সদ্য সাবেক কমিটির সহ-সমাজসেবা সম্পাদক। তিনি চিলমারী উপজেলা শহরের বাসিন্দা।

অভিযুক্ত এই সাবেক ছাত্রদল নেতার দাবি- সরকার নির্ধারিত জামানতের টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিয়েছেন। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের অবহিত করে কলেজ মাঠে পশুর হাট বসানো হয়েছে। তবে লিখিত অনুমতি দেখাতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন তিনি।

কলেজের অধ্যক্ষ জানান, সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক কলেজ মাঠে হাট বসানোর নিয়ম নেই। কলেজের স্টাফ কাউন্সিলের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কলেজ মাঠে পশুর হাট বসানোর অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। গত বুধবার রেজুলেশনসহ লিখিতভাবে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বিষয়টি জানানো হয়। এর অনুলিপি জেলা প্রশাসক এবং চিলমারী থানার ওসিকেও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এসব কিছুর পরও গায়ের জোরে কলেজ মাঠে পশুর হাট বসানো হয়েছে।

অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মজিবল হায়দার চৌধুরী আরও বলেন, কলেজ মাঠে পশুর হাট বসানো বেআইনি। লিখিতভাবে জানানোর পরও আমি নিজে জেলা প্রশাসক ও ইউএনওকে অবহেলিত করেছি। রোববার সকালে কলেজ চত্বরে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। এরপর হাট আয়োজকদের সাথে কী নেগোসিয়েশন হয়েছে জানি না। কিছুক্ষণ পর পুলিশ চলে গেলে আয়োজকরা গেটের লাগানো তিনটি তালা ভেঙে মাঠে প্রবেশ করে। কলেজ মাঠে বাঁশের খুঁটি পুঁতে গরু-ছাগলের হাট বসানো হয়েছে।

নিজের অসহায়ত্বের কথা স্বীকার করে অধ্যক্ষ বলেন, আমি তো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে পারি না। স্থানীয় প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। এটা ডিসি এবং ইউএনওর কাজ। তারা ব্যবস্থা না নিলে আমি কী করতে পারি।

ছাত্রদল নেতা চমক সাংবাদিকদের বলেন, সরকার ২০২৫ সালে অস্থায়ী হাট বসানোর আইন করেছে। অস্থায়ী হাট করতে হলে ডিসিকে একটা জামানত দিতে হবে। আমরা জামানত জমা দিয়েছি। ডিসির অনুমতি নিয়ে কলেজ মাঠে হাট বসিয়েছি। টাকা জমা দেওয়ার রিসিট আমার কাছে আছে। পুরোপুরি আইনি প্রক্রিয়া মেনে হাট বসানো হয়েছে। এখানে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির সুযোগ নেই। আমার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। একই সঙ্গে এটা ব্যবসা এটার সাথে রাজনীতির বা ছাত্রদলের কোনো সম্পর্ক নেই।

তিনি আরও যোগ করেন, আমাদের ডিসি অফিসে তলব করেছিল। ডিসি অফিসে আমরা অনুমতি নিয়েছি। তারা বলেছেন যে ‘ফি দিয়ে আপনারা এটা করেন’। সরকারের নিয়ম মেনে আমরা এটা করেছি। ইউএনওর সঙ্গে বসেছি। তাদের অনুমতি ছাড়া কি আমরা এটা করতে পারি! এটি ঐতিহ্যবাহী হাট। অনেক বছর ধরে এই হাট কলেজ মাঠে বসে আসছে। এটা অস্থায়ী হাট। আমাদের দেশে স্কুল-কলেজের মাঠে অস্থায়ী হাট বসে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে হাট বসানোর বৈধতা প্রশ্নে ছাত্রদল নেতা বলেন, ‘এটা নতুন না প্রতি বছর হয়ে আসছে।’

জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, তারা আবেদন করেছিল; কিন্তু অনুমোদন দেওয়া হয়নি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে পশুর হাট বসানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। আমরা কোনো অনুমোদন দেইনি। শুনেছি অধ্যক্ষ গেটে তালা দিয়ে রেখেছেন। সেই তালা ভেঙে হাট বসানো হয়েছে। আমি বিষয়টি দেখার জন্য ইউএনওকে বলেছি।

চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসানকে বারবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। খুদে বার্তা পাঠিয়েও জবাব পাওয়া যায়নি।

চিলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নয়ন কুমার কলেজ মাঠে হাট বসার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি দাবি করেন, পশুর হাট আয়োজকদের টাকা জমার রশিদসহ অনুমোদন আছে। ইউএনও অবহিত। তাই সকালে কলেজে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পুলিশ গেলেও পরে চলে আসে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম