Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে যানজটের আশঙ্কা

Icon

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬, ০২:৪৫ পিএম

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে যানজটের আশঙ্কা

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কেরযানজট। ছবি: যুগান্তর

পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র কয়েকদিন বাকী। এরই মধ্যে লোকজন নারীর টানে বাড়ী ফিরতে শুরু করেছে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা এলাকায় আসন্ন ঈদযাত্রায় কয়েক স্থানে যানজটের শঙ্কা রয়েছে। ভাসমান বাজার, ব্যাটারিচালিত রিকশার অবাধ চলাচল, অবৈধ স্থাপনা, যত্রতত্র পার্কিং ও যাত্রী ওঠানামার কারণে এই আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রাফিক পুলিশ, যাত্রী এবং পরিবহন চালকরা। তবে যানজট নিরসনে রোজার ঈদের মতো এবারও পুরো প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ, ট্রাফিক বিভাগ।

জানা যায়, প্রতিবারের মতো এবারও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে যানজটের আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় যানজটের মাত্রা চরমে পৌঁছাতে পারে বলে জানিয়েছে ট্রাফিক বিভাগ। ওই সড়ক দিয়ে উওরবঙ্গের প্রায় ২৫টি জেলার যানবাহন চলাচল করে থাকে। ঈদযাত্রায় যানজটের শঙ্কা রয়েছে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কয়েকটি স্থানে। গাজীপুর হাইওয়ে রিজিয়ন, জেলা পুলিশ যানজট নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছে।

যানজট নিরসনে মহাসড়কে জেলা পুলিশ থেকে ৫৫০,গাজীপুর হাইওয়ে রিজিয়নের ৮২৭ জন পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। হাইওয়ে পুলিশের তালিকায় সবচেয়ে বেশি যানজটপ্রবণ মহাসড়ক হচ্ছে ঢাকা-উত্তরবঙ্গ, মহাসড়কের মধ্যে উত্তরের পথে ২৫টি, যানজটপ্রবণ স্থান রয়েছে। তবে বিকল্প পথ না থাকায় এসব যানজট পার করে গন্তব্যে যেতে হবে। ঢাকা থেকে টাঙ্গাইল হয়ে উত্তরের পথে যাতায়াতের মহাসড়কে গাজীপুরের চন্দ্রা উড়ালসড়কের পশ্চিম প্রান্ত খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

এই পথে চার লেনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। কিন্তু কিছু পাতাল ও উড়ালসড়কের কাজ এখনও কিছুটা বাকি আছে। এসব স্থানে যানজটের আশঙ্কা করছে হাইওয়ে পুলিশ। এ ছাড়া ঢাকা থেকে টাঙ্গাইলের মধ্যে প্রচুর পোশাক কারখানা রয়েছে। অনেক কারখানার পাশে মহাসড়কের বিভাজক কেটে পারাপারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সেগুলোতেও যানজটের শঙ্কা করা হচ্ছে। মহাসড়কের পাশের বাসস্ট্যান্ড এবং বাজারগুলোকেও নজরে রাখার কথা বলা হয়েছে। কারণ বিকল্প পথ নেই। চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকার যানজট কমাতে উড়ালসড়ক নির্মাণ করা হয়। উড়ালসড়ক চালু হওয়ার পর যানজট কিছুটা কমলেও নিচের সড়কের একটি লেন সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় সমস্যা দেখা দেয়। নবীনগর থেকে চন্দ্রা হয়ে উত্তরবঙ্গের দিকে যাতায়াতকারী যানবাহনগুলো এই সংকুচিত স্থানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকে।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রায় বিভিন্ন কোম্পানির বাস কাউন্টার থাকায় মহাসড়কের পাশে বাস থামিয়ে এসব কাউন্টার থেকে যাত্রী উঠানোয় দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। আবার এসব সড়ক এড়িয়ে যাওয়ারও সুযোগ নেই। প্রতি বছর ঈদযাত্রায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়। এই মহাসড়ক দিয়ে রংপুর এবং রাজশাহী বিভাগের যানবাহন চলাচল করে। দুই বিভাগের যানবহনগুলো রাজধানীর মহাখালী এবং গাবতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে রওনা দেয়। গাজীপুরের জিরানী বাসস্ট্যান্ডে যানজটের কবলে পড়তে হয়। জিরানী বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত পৌঁছাতে সাত কিলোমিটার সড়ক পাড়ি দিতে দুই থেকে চার ঘণ্টা সময় বেশি লাগে।

উল্লেখ্য ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা এলাকায় যাবাহনের দীর্ঘ লাইন, যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাকে লোকজন নারীর টানে বাড়ি ফিরতে হয়। চন্দ্রা টার্মিনালে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ ও ত্রিমুখী যানজটে নাকাল যাত্রীরা। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে ঘরমুখী মানুষের ঢল নোমে গাজীপুরের চন্দ্রা বাস টার্মিনালে।

সাভার থেকে অপরদিকে গাজীপুর হতে ও ঢাকা থেকে উওরবঙ্গের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা শত শত যানবাহন চন্দ্রা এসে থমকে যায়। জিরানী থেকে চন্দ্রা, গাজীপুর থেকে চন্দ্রা আবার চন্দ্রা থেকে বোর্ডঘর পর্যন্ত বুধবার দুপুরের পর থেকে যানজটে যাত্রীদের চরম দুভোর্গ পোহাতে হচ্ছে।

ঢাকা টাঙ্গাইল মহাসকের গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা এলাকায় মানুষের ঢল উপচে পড়া ভীড় থাকে সব সময়। ঈদুল আজহার ছুটির দিনে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় বাড়তে শুরু হয়েছে যানবাহনের চাপ। বিশেষ করে উড়ালসড়কের পশ্চিম পাশে মহাসড়ক সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় থেমে থেমে চলে গাড়ি। এতে ঘরমুখো যাত্রীদের দুর্ভোগের শঙ্কা দেখা দেয়।

শিল্পঅধ্যুষিত গাজীপুরের শত শত পোশাক কারখানা ছুটি ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে চাপ বেড়ে যায়। এতে নানা পেশার কর্মজীবী মানুষ পরিবার নিয়ে উত্তরের পথে রওনা হয়। যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় আর যানবাহনের হাঁকডাকে চন্দ্রা টার্মিনালে জটলার সৃষ্টি হয়। দিনভর অনেকটা স্বস্তি থাকলেও বিকেল থেকেই যানবাহন ও যাত্রীদের চাপ বাড়তে থাকে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বেশির ভাগ অংশে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় এসে ধীরগতির সৃষ্টি হচ্ছে। উড়ালসড়ক পার হওয়ার পর সড়কের প্রস্থ হঠাৎ কমে যাওয়ায় একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক যানবাহন সরু অংশে ঢুকে পড়ে। এতে কোথাও কোথাও দীর্ঘ সারি তৈরি না হলেও গাড়ি থেমে থেমে চলতে দেখা যায়।

যাত্রীরা জানান, চন্দ্রা বাস টার্মিনাল পর্যন্ত পৌঁছতেই এক থেকে দুই ঘণ্টা সময় লেগে যায়। আবার সেখানে গিয়ে যাত্রী তোলার অজুহাতে দীর্ঘসময় গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকছে। পথে কোথাও ভোগান্তি হোক না হোক চন্দ্রাতে ভোগান্তি থাকবেই। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সফিপুর থেকে চন্দ্রা টার্মিনাল পর্যন্ত ও চন্দ্রা-নবীনগর সড়কের কবিরপুর থেকে চন্দ্রা টার্মিনাল পর্যন্ত সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদের ছুটি শুরু হওয়ায় গাজীপুরের প্রথম দাপে পাঁচ শতাধিক পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে। ছুটি পেয়ে হাজার হাজার শ্রমিক গ্রামের পথে রওনা হচ্ছেন। এতে উত্তরবঙ্গমুখী বাস, ট্রাক ও ব্যক্তিগত যানবাহনের সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে গেছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চন্দ্রা ত্রিমোড় মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মিলনস্থল হওয়ায় এখানে সব সময়ই যানবাহনের চাপ থাকে। একদিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক দিয়ে উত্তরবঙ্গমুখী গাড়ি চলাচল করে, অন্যদিকে চন্দ্রা-নবীনগর সড়ক দিয়ে ঢাকা ও সাভারের দিকে যানবাহন যায়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে স্থানীয় সড়কগুলো। ফলে তিন দিক থেকে একসঙ্গে যানবাহন এসে মিলিত হওয়ায় প্রায়ই যানজটের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়দের মতে, চন্দ্রা ত্রিমোড়ের মূল সমস্যা সেই পুরোনো-তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সংযোগস্থল হওয়া, উড়ালসড়কের পর হঠাৎ সড়ক সংকুচিত হয়ে যাওয়া এবং নিয়ন্ত্রণহীন যানবাহনের চাপ। এর সঙ্গে ঈদের অতিরিক্ত যাত্রী চাপ যুক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে। এ ছাড়া মহাসড়কের পাশে যত্রতত্র যানবাহন দাঁড় করানো, যাত্রী ওঠানামা এবং স্থানীয় ছোট যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচলও ধীরগতির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা যায়। আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে ঘরমুখো মানুষের চাপ আরও বাড়লে চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হতে পারে।

এলাকাবাসীর দাবি, সমস্যার স্থায়ী সমাধানে উড়ালসড়কের পশ্চিম পাশে সড়ক প্রশস্ত করা, নির্দিষ্ট বাসস্ট্যান্ড স্থাপন এবং অবৈধ পার্কিং বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। তা না হলে প্রতি ঈদেই চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় একই ভোগান্তি পোহাতে হবে যাত্রীদের। 

যাত্রী ও চালকরা বলছেন, মহাসড়কের দুই পাশে অবৈধ দোকানপাট, কাঁচাবাজার, ইজিবাইকের চলাচল এবং অবৈধ পার্কিংয়ের কারণে সারা বছরই যানজটের সমস্যা থাকে। ঈদের সময় এই সমস্যা আরও তীব্র হয়।

নাওজোড় হাইওয়ে থানার ওসি সওগাতুল অলম বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকলে আশা করি যানজটে তেমন সমস্যা হবেনা। যানজট নিরসনে পুলিশ কাজ করছে।

গাজীপুর জেলা পুলিশের ইন্সপেক্টর হামিদুজ্জামান বলেন, কারখানা ছুটি হলে ঈদের সময় যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে চন্দ্রা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সড়কে কারখানার শ্রমিকরা বাড়ী যাচ্ছে। আমরা সার্বক্ষনিক সড়কে আছি। আশাকরি যাত্রীদের ভোগান্তি হবে না।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .