ক্যানসারে আক্রান্ত মা-মেয়ে, চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে নিঃস্ব পরিবার
সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩০ মে ২০২৬, ০৪:০৩ পিএম
ক্যানসারে আক্রান্ত মা শেফালী বেগম এবং স্কুলপড়ুয়া মেয়ে শাহী ফারজানা মিমি।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের পশ্চিম রাজিবপুর গ্রামের একটি ছোট্ট টিনের ঘরে এখন নীরব কান্না আর দীর্ঘশ্বাসের বাস। একই পরিবারের মা ও মেয়ে দুজনেই জরায়ু ক্যানসারে আক্রান্ত। চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে পরিবারটি।
মা শেফালী বেগম (৪৫) এবং স্কুলপড়ুয়া মেয়ে শাহী ফারজানা মিমির (১৩) জীবন এখন অনিশ্চয়তার মুখে। সীমিত আয়ের এই পরিবারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি মিমির বাবা মিজানুর রহমান।
ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে গাড়িচালকের চাকরি করে কোনোভাবে সংসার চলছিল। কিন্তু দুই বছর আগে শেফালী বেগমের শরীরে জরায়ু ক্যানসার ধরা পড়লে চিকিৎসার খরচ জোগাতে একে একে বিক্রি করতে হয়েছে সহায়-সম্বল, এমনকি বসতভিটাও।
এর মধ্যেই নতুন বিপর্যয় নেমে আসে পরিবারটিতে। দুই বছর না পেরোতেই মিমির শরীরেও একই রোগ ধরা পড়ে। চিকিৎসকদের মতে, ক্যানসারের পাশাপাশি তার কিডনিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শরীরে স্বাভাবিকভাবে রক্ত উৎপাদন না হওয়ায় নিয়মিত রক্ত দিতে হচ্ছে তাকে।
মিমির বাবা জানান, প্রতি মাসে চার থেকে পাঁচটি পরীক্ষা করাতে হয়। শুধু পরীক্ষার খরচই প্রায় ৩০ থেকে ৩২ হাজার টাকা। ওষুধ, রক্ত ও অন্যান্য চিকিৎসা ব্যয় মিলিয়ে খরচ বহন করা এখন তাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। ইতোমধ্যে চিকিৎসার পেছনে প্রায় ২৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শেফালী বেগমের ক্যানসার দ্বিতীয় ধাপে রয়েছে। অন্যদিকে মিমির রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হওয়ায় দ্রুত উন্নত চিকিৎসা শুরু করা গেলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এজন্য প্রয়োজন অন্তত ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে শেফালী বেগম বলেন, আমরা গরিব মানুষ। মেয়েটাকেও আমার মতো কষ্ট করতে দেখলে বুক ফেটে যায়। সমাজের মানুষ যদি একটু সাহায্য করেন, তাহলে হয়তো আমরা বাঁচতে পারব।
মিমি জানায়, তার প্রায়ই মাথাব্যথা, পায়ে ব্যথা ও জ্বর থাকে। অসুস্থতার কারণে নিয়মিত স্কুলেও যেতে পারে না। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সব সময় হাসিখুশি থাকার চেষ্টা করছে সে।
এলাকাবাসীরাও মা-মেয়ের চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা বলেন, সরকার ক্যানসারসহ কয়েকটি জটিল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকে। আবেদন করলে সরকারি সহায়তার আওতায় ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত অনুদান পাওয়া সম্ভব।
