মাগুরায় বিএনপির দুই গ্রুপের দফায় দফায় সংঘর্ষ, নারীসহ আহত ১২
মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬, ১০:৪২ পিএম
মাগুরায় বিএনপির দুই গ্রুপের দফায় দফায় সংঘর্ষ, বাড়ি ভাঙচুর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৮ জনকে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এছাড়া সংঘর্ষ চলাকালে উভয়পক্ষের অন্তত ১৫টি বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রোববার (৩১ মে) সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়ে সোমবার (১ জুন) বিকাল পর্যন্ত উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের ঘুল্লিয়া গ্রামে কয়েক দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, কেন্দ্রীয় শহীদ জিয়া পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মাগুরা জেলা যুবদল নেতা সোহেল রানার সমর্থকদের সঙ্গে বিনোদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুর জামান ভূগোলের সমর্থকদের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। যুবদল নেতা সোহেল সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী অনুসারী এবং আশরাফুল ইসলাম ভূগোল যুবদল নেতা রবিউল ইসলাম নয়নের অনুসারী। এদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। ছোট খাটো ঘটনা প্রায়ই দিনই ঘটে থাকে।
স্থানীয়দের দাবি, গত সপ্তাহে বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে সুকুর নামে এক ব্যক্তিকে আশরাফুর জামান ভূগোলের সমর্থকরা মারধর করেন। এরপর ঈদের পরের দিন অ্যাডভোকেট রুবেল শিকদারকে ঘুল্লিয়া বাজার থেকে যুবদল নেতা সোহেল ও তার অনুসারীরা বেধড়ক মারধর করে। এর একদিন পরে সামাজিক দলে যোগদান ও বিয়ের দাওয়াত দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এরই জেরে রোববার রাতে উভয়পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রথম দফার সংঘর্ষের পর সোমবার সকালে শেখপাড়াসহ আশপাশের এলাকায় আবারও হামলা, পাল্টা হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন- আমজেদ মোল্যা, আরজিনা বেগম, আরিফ শিকদার, জুয়েল মোল্যা, জাহিরুল মোল্যাসহ অন্তত ১২ জন। তাদের মধ্যে ৮ জনকে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত জাহিরুল মোল্যাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে একের পর এক বাড়িতে হামলা চালানো হয়। এতে মতিন ফকির, আরজু মোল্যা, অলিয়ার ফকির, হান্নান মোল্যা, এরশাদ মোল্যা ও আকবর শেখসহ দুই পক্ষের অন্তত ১৫টি বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের শিকার হয়।
দফায় দফায় সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মহম্মদপুর থানার ওসি আশরাফুজ্জামান বলেন, ঘটনার পর এলাকায় কিছুটা উত্তেজনা থাকলেও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আটকের চেষ্টা করা হচ্ছে।
