ঘাটের ইজারা ফ্রি করে দেন, দরকার হলে জমি বেচে টাকা দেব: হুইপ নিজান
কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ০৫:৫২ পিএম
হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মানুষকে কষ্ট দেওয়া যাবে না, মানুষের জন্য রাজনীতি করি! আমি হয়তো এত টাকাওয়ালা লোক না, তবে ভোররাতে মালিকের কাছে চাইলে টাকা জোগাড় হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। দরকার হলে নিজের বাপ-দাদার জমি বেচে টাকা দেব! অতএব কথা বড় স্পষ্ট।
ঈদুল আজহা পরবর্তী একটি পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে ছুড়ে দেওয়া এই একটি বক্তব্যই এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও চায়ের টেবিলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের সরকারদলীয় হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান।
রোববার (৩১ মে) সন্ধ্যায় উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ মতিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের রিইউনিয়ন (পুনর্মিলনী) অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ঘাটের অতিরিক্ত টোল ও ইজারা নিয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির বিরুদ্ধে এমন আপসহীন ও মানবিক অবস্থান ঘোষণা করেন তিনি। তার এই সাহসী ও জনবান্ধব বক্তব্য ইতোমধ্যে জেলা ছাড়িয়ে দেশব্যাপী ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে, যা নেটিজেনদের মাঝে তাকে ‘ভাইরাল’ করে তুলেছে।
অনুষ্ঠানে হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান ঘাট ইজারাদারদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সাধারণ মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ঘাটের ইজারা ফ্রি করে দিতে হবে।
মানুষের পকেট কাটার রাজনীতি করেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইজারাদারদের পাওনা টাকার বিকল্প ব্যবস্থা তিনি নিজেই করবেন, প্রয়োজনে নিজের পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে দেবেন।
ক্ষমতার মোহ ছেড়ে জীবনের নশ্বরতার কথা স্মরণ করে তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, কতবার এমপি হইতে হবে? আমার আর বেশি বাঁচার দরকার নাই, এমপি হওয়ারও দরকার নাই! রামগতি আর কমলনগরে যদি ২-৩টা জিনিস ঠিক করে দিতে পারি, অনেক কিছু ঠিক হয়ে যাবে।
বর্তমান সময়ে যখন নদীঘাট, হাটবাজার বা গণপরিবহণে ইজারার নামে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি কর বা চাঁদার বোঝা চাপানোর অভিযোগ নিত্যদিনের রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেখানে একজন ক্ষমতাসীন দলের হুইপের এমন ঘোষণা সত্যিই বিরল।
আশরাফ উদ্দিন নিজানের এই ভালো কাজের গুরুত্ব মূলত তিনটি জায়গায় অনন্য। যেমন- ক্ষমতার অপব্যবহার বা ইজারাদারদের সিন্ডিকেটের মুখে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে সাধারণ খেটেখাওয়া মানুষের পকেটের টাকা বাঁচানোর এ উদ্যোগ সরাসরি সাধারণ মানুষের হৃদয়ে দাগ কেটেছে।
অন্যদিকে বাপ-দাদার জমি বেচে টাকা দেব- এই বক্তব্য প্রমাণ করে তিনি রাজনীতিকে ব্যবসার হাতিয়ার বানাননি, বরং জনসেবার মাধ্যম হিসেবে নিয়েছেন এবং কর বা টোলের জুলুম বন্ধসহ এলাকার ২-৩টি মৌলিক সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান করতে পারলে অবহেলিত এই জনপদের অর্থনৈতিক চিত্র পুরোপুরি বদলে যাবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সুধীসমাজ।
রামগতি ও কমলনগরের সাধারণ মানুষ মনে করছেন, হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজানের এই যুগোপযোগী ও সাহসী সিদ্ধান্ত যদি প্রতিটি ঘাটে ও হাটে বাস্তবায়ন হয়, তবে তা দেশের অন্যান্য অঞ্চলের জনপ্রতিনিধিদের জন্যও একটি অনুকরণীয় মডেল বা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
