বেনাপোল সীমান্তে পুশইন চেষ্টা
শূন্যরেখায় জড়ো করা ব্যক্তিদের সরিয়ে নিল বিএসএফ
ইন্দ্রজিৎ রায়, যশোর
প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ০৭:২০ পিএম
শূন্যরেখায় জড়ো করা ব্যক্তিদের সরিয়ে নিল বিএসএফ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বেনাপোলের সাদিপুর সীমান্তে পুশইন চেষ্টা করা ব্যক্তিদের শূন্যরেখা থেকে সরিয়ে নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফ। বুধবার ভোররাতে শূন্যরেখার ভারতীয় ভূখণ্ডে তিন ধরে অবস্থান করা ১০-১২ জন নারী পুরুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
এদিন সকালে সীমান্তে বিজিবি ড্রোন উড়িয়েও তাদের উপস্থিতি দেখা যায়নি। এদিকে পুশইন চেষ্টাদের প্রতিহত করতে সীমান্তে বিজিবির অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিভিন্ন বাঙ্কার থেকেও বিজিবি সদস্যদের সরিয়ে ফেলা হয়। তবে সীমান্তে বিজিবির স্বাভাবিক টহল অব্যাহত রয়েছে।
গত রোববার গভীর রাতে বেনাপোল সাদীপুর সীমান্তের ওপারে ভারতের নরহরিপুর এলাকায় রাতের আঁধারে তিনটি ট্রাকে করে দেড় শতাধিক মানুষকে জড়ো করে ভারতের বর্ডার গার্ড। এরপর সীমান্তের আলো নিভিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ প্রায় ১০-১২ জনকে শূন্যরেখায় ঠেলে পাঠায় বিএসএফ। এ সময় যশোর ৪৯ ব্যাটালিয়নের টহল দলের বিজিবি সদস্যরা তাদের আটকে দেন। ঘটনার পর থেকে তাদের মানবেতর জীবনযাপন করতে দেখা যায় সীমান্তে।
এ বিষয়ে যশোর-৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম খান বলেন, আমাদের সীমান্তে বিজিবি সবসময় কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বিজিবি সদস্যরা তাদের স্বাভাবিক টহল অব্যাহত রেখেছে। রোববার রাত থেকে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল জোরদার ছিল। এ সময় বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর কঠোর বার্তা
এদিকে সীমান্ত নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও স্থানীয় বাস্তবতা পর্যবেক্ষণে বুধবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বেনাপোলের সাদিপুর সীমান্ত পরিদর্শনে যান এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
সীমান্ত পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, সীমান্তে পুশইন, হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনক। এসব ঘটনা বন্ধে সরকারকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমান পররাষ্ট্রনীতি যথেষ্ট কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ কোনোভাবেই পুশইন মেনে নেবে না। সীমান্তে এমন কোনো প্রচেষ্টা হলে তা প্রতিহত করতে সরকারকে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে। সীমান্ত হত্যা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর আন্তর্জাতিক বিচার দাবি করা উচিত।
সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কেউ যদি রাতের আঁধারে সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ বা পুশইনের চেষ্টা করে, তাহলে স্থানীয় জনগণকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিজিবিকে সহযোগিতা করতে হবে। একই সঙ্গে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক আরও বলেন, ভবিষ্যতে রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে সীমান্ত অঞ্চলের মানুষের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি সীমান্ত রক্ষায় বিজিবিকে আরও শক্তিশালী বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িবহরে হামলায় আহত ৪
অপরদিকে যশোরের বেনাপোলের সাদিপুর সীমান্ত পরিদর্শন শেষে ফেরার পথে বেনাপোল বাজারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িবহরে হামলা হয়েছে। বুধবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
এনসিপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বেনাপোলের সাদিপুর সীমান্ত পরিদর্শন শেষে ফেরার পথে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় চারজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন- ছাত্রশক্তি নেতা খান মিফতাহুল মোস্তাফিজ অমিত, তাসকিন আহমেদ তাজিম ও যুবশক্তি নেতা রুপম আহসান অর্নব।
তবে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও যুগ্ম সদস্য সচিব ফরিদুল হকসহ দলের অন্য নেতারা নিরাপদে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। হামলার ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কারা জড়িত ছিল এবং হামলার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি।
এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য খালিদ সাইফুল্লাহ জানান, যশোরের বেনাপোলের সাদিপুর সীমান্তে পুশইন চেষ্টার প্রতিবাদে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নেতৃত্বে বুধবার দুপুরে পরিদর্শন করেন। এ সময় কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সাদিপুরে পরিদর্শন শেষে গাড়িতে উঠার সময় গাড়িতে ডিম নিক্ষেপ করে কিছু যুবক পালিয়ে যায়। পরে দুটি গাড়িতে বেনাপোল বাজারে পৌঁছলে বিএনপির নেতারা হামলা করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এ সময় চার নেতা আহত হয়েছেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ নেতারা ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। এই গুপ্ত হামলায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।
বহরের একটি গাড়ির জানালার কাচ ভাঙ্গার একটি ছবি তার ব্যবহৃত ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লিখেছেন- ‘সীমান্তে আমাদের আগমনের খবর পাওয়ার পর গত রাতে যেসব পরিবারকে জোরপূর্বক পুশইন করা হয়েছিল, তাদের ভারতীয় কর্তৃপক্ষ সেখান থেকে সরিয়ে নিয়েছে। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি। পরিস্থিতি সম্পর্কে সরেজমিন তথ্য সংগ্রহ করেছি। ফেরার পথে আমাদের গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। ৪ জন আহত হয়েছেন। তবে বাকিরা আল্লাহর রহমতে নিরাপদ আছি। সীমান্তে মানবিক মর্যাদা, নাগরিক অধিকার এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে আমাদের অবস্থান অবিচল থাকবে।’
তবে এ ধরনের কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছেন বেনাপোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন। ওসি দাবি করেন এনসিপি নেতাদের অভিযোগ মিথ্যা।
