Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

স্কুলছাত্রী রিয়া হত্যা

লাশের গাড়ি ঠেলে দিয়েছিল স্থানীয়রা, সেই সূত্রে শনাক্ত খুনিরা

Icon

পাবনা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ১০:৪৮ পিএম

লাশের গাড়ি ঠেলে দিয়েছিল স্থানীয়রা, সেই সূত্রে শনাক্ত খুনিরা

স্কুলছাত্রী রিয়াকে হত্যা করে প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে প্রাইভেটকারে নিয়ে যাচ্ছিল নদীতে ফেলে দিতে। পথিমধ্যে ইঞ্জিন বিকল হওয়ায় ওই গাড়ি ঠেলে দিয়েছিলেন স্থানীয়রা। সেই সূত্র ধরেই মিলল খুনিদের সন্ধান।

পাবনার পদ্মা নদী থেকে বুধবার (৩ জুন) সকালে হাত-পা বাঁধা ও বস্তাবন্দি অবস্থায় এক কিশোরীর লাশ উদ্ধার হওয়ার পর হত্যারহস্য উদঘাটন হয়। অতঃপর ব্যবহৃত গাড়িসহ প্রেমিক নাঈম ও অপর তিনজন এখন পুলিশের কবজায়।

কিশোরী রিয়া খাতুন (১৫) পাবনা সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের পূর্ব রাঘবপুর গ্রামের আজিজুল প্রামাণিকের মেয়ে। সে মাওলানা কাসিমুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

গ্রেফতার তিনজন হলেন- হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা ও প্রেমিক পাবনা সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের পূর্ব রাঘবপুর গ্রামের মৃত কাশেম প্রামাণিকের ছেলে মো. নাঈম এবং তার দুই সহযোগী একই গ্রামের শফিক শেখের ছেলে ইয়াসিন শেখ ও শিমুল প্রামাণিকের ছেলে তুহিন প্রামাণিক (১৭)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাঈমের সঙ্গে রিয়ার দীর্ঘ দিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত মঙ্গলবার (২ মে) বেলা ১১টার দিকে রিয়া খাতুন প্রেমিক নাঈমের বাসায় বেড়াতে যায়। সেখানে উভয়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের একপর্যায়ে কিছু আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি ও বিরোধ হয়। একপর্যায়ে নাঈম ক্ষিপ্ত হয়ে রিয়া খাতুনকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে লাশ সরিয়ে ফেলতে তা বন্ধু ইয়াসিন শেখ ও তুহিন প্রামাণিককে ডেকে আনে।

তারা রিয়ার দুই হাত দড়ি দিয়ে বাঁধে এবং গলায় একটি বাজারের ব্যাগ পেঁচিয়ে মুরগির খাবারের বস্তায় ভরে পদ্মা নদীতে ফেলতে যায়। তীরে নিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ প্রাইভেটকারটি নষ্ট হয়ে যায়। তখন গাড়ির ভেতরে লাশ থাকা অবস্থাতেই চারজন যুবককে গাড়ি ঠেলতে দেখে স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন। মানবিক কারণে স্থানীয়রা গাড়িটি ঠেলে বলরামপুর মুজিব বাঁধ পর্যন্ত পৌঁছে দেন।

তবে যুবকদের সন্দেহজনক আচরণে স্থানীয়দের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে। শেষপর্যন্ত স্থানীয়দের সেই সন্দেহের সূত্র ধরেই ঘটনার জট খুলল পুলিশ।

বুধবার সন্ধ্যায় পাবনার পুলিশ সুপার সুফী উল্লাহ নিজ কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দেন। তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার সবাই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .