প্রবাসী পরিবারের ওপর হামলা, ৪ মেয়ে নিয়ে আতঙ্কে গৃহবধূ
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ১০:২০ পিএম
প্রবাসী পরিবারের ওপর হামলা, ৪ মেয়ে নিয়ে আতঙ্কে গৃহবধূ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
লক্ষ্মীপুরে দাবিকৃত ৫ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় বাড়ি নির্মাণ কাজে বাধা দিয়ে এক ইতালি প্রবাসী পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসাশিক্ষক জহির উদ্দিন মাহমুদের বিরুদ্ধে। ঘটনার সময় প্রবাসীর স্ত্রী শাহনাজ বেগম ও ৪ মেয়েসহ ১৩ জনকে পিটিয়ে আহত করা হয়।
হামলার সময় ঘরে থাকা প্রায় ৫ লাখ টাকার স্বর্ণালংকারও লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকালে জেলা শহরের একটি রেঁস্তোরায় সংবাদ সম্মেলন করে ইতালি প্রবাসী জসিম উদ্দিনের বড় মেয়ে জুবাইদা গুলশান আরা মিলি লিখিত বক্তব্যে এসব জানান। এ সময় তিনি ৪ মেয়ে নিয়ে আতঙ্কে গৃহবধূ আছেন বলে জানান।
এর আগে বুধবার (৩ জুন) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত কয়েক দফায় তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে প্রবাসী পরিবারের ১৩ জন আহত হন। তারা সদর হাসপাতাল ও স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন।
ভুক্তভোগী শাহনাজ চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার মান্দারী ইউনিয়নের মোহাম্মদনগর এলাকার ইতালি প্রবাসী জসিম উদ্দিনের স্ত্রী। অভিযুক্ত জহির তাদের প্রতিবেশী ও জকসিন মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষক। উভয়ের মধ্য জমিসংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে শাহনাজ, তার মেয়ে কলেজছাত্রী মিলি, সুমাইয়া আক্তার, স্কুলছাত্রী ইশরাত জাহান ইকরা মোল্লা, শিশুশ্রেণির ছাত্রী রাবেয়া মিথি, বোন আকলিমা বেগম, ভাগ্নি জান্নাতুল ফেরদাউস ও বোনজামাই কামাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
জুবাইদা গুলশান আরা মিলি বলেন, জহির আমাদের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। তা না দেওয়ায় ভবন নির্মাণ করতে গেলে জহির ও তার ভাগ্নে জোনায়েদ এসে বাধা দেয়। এতে প্রতিবাদ করায় জহিরসহ তার লোকজন আমাদের ওপর কয়েক দফায় হামলা করে। আমাদের ঘরে মেহমান ছিল তাদেরও মারধর করেছে। তারা আমাদের ঘর থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে গেছে।
ভুক্তভোগী শাহনাজ বেগম বলেন, কয়েক দফায় আমাদের ওপর হামলা করা হয়েছে। ৪ মেয়ে নিয়ে আমি আতঙ্কে রয়েছি। যেকোনো সময় হামলাকারীরা তাদের বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
এ ব্যাপারে জহির উদ্দিন মাহমুদ বলেন, ঘটনার সময় আমি উপস্থিত ছিলাম না। চাঁদা দাবির অভিযোগ মিথ্যা। সীমানা অতিক্রম করে ভবন নির্মাণ করলে আমার ভাগ্নে কাজে বাধা দেয়। এতে উভয়পক্ষ মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে। আমাদের একজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।
চন্দ্রগঞ্জ থানার ওসি মোরশেদ আলম বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নাম্বারে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাটি নিয়ে থানায় অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে; কিন্তু কেউ থানায় অভিযোগ দেয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
