Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

কুমিরের হামলায় ফাতেমার মৃত্যু, মানসিক ভারসাম্যহীন মা পেলেন ঠিকানা

Icon

শওকত আলী বাবু, বাগেরহাট

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম

কুমিরের হামলায় ফাতেমার মৃত্যু, মানসিক ভারসাম্যহীন মা পেলেন ঠিকানা

বাগেরহাট খানজাহান আলী (রহ.) মাজারের কুমিরের হামলায় ৮ বছরের ফাতেমা বিদায় নিল দুনিয়া থেকে। কিন্তু ছোট্ট এই শিশুটির প্রাণ বিসর্জনের কারণেই তার মানসিক ভারসাম্যহীন মা ফজিলা বেগম ফিরে পেলেন নিজের পরিচয়।  ফিরলেন আপন ঠিকানা ময়মনসিংহে স্বামী সন্তানের কাছে।

কয়েক বছর আগে এক শুক্রবার বিকালে ঝড়ের সময় মেয়ে ফাতেমাকে নিয়ে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন মানসিক ভারসাম্যহীন ফজিলা বেগম। তখন ফাতেমার বয়স ছিল মাত্র সাড়ে ৩ বছর। ঠিকানা হারিয়ে ভবঘুরে হিসেবে মা ও মেয়ের ঠাঁই হয় বাগেরহাটে।

প্রথমদিকে বাগেরহাট বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কিছুদিন এবং পরে খানজাহানের মাজারে ফাতেমাকে নিয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন ফজিলার কষ্টের পথচলা শুরু হয়। এ অবস্থায় ১ জুন রাত সাড়ে ৮টার দিকে  মাজারের দীঘিতে গোসলে নেমে কুমিরের হামলার শিকার হয়  ফাতেমা। মায়ের চোখের সামনে পা ধরে টেনে নিলেও  মানসিক ভারসাম্যহীন ফজিলার কিছুই করার ছিল না- নির্বাক চেয়ে থাকা ছাড়া। 

এ বিষয়ে প্রতিবেদন ও ছবি দেখে ফজিলা বেগমকে (৪৭) চিনতে পারেন পরিবারের লোকজন। পরে যোগাযোগ করে তাকে ফিরিয়ে নিয়ে যান তার মা ও স্বজনরা।

এদিকে শিশু ফাতেমাকে মাজারের দীঘিরপাড়ের কবরস্থানে রেখেই মা ফজিলা বেগম পরিবারের কাছে আজ ফিরে গেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. আতিয়া খাতুন ফজিলা বেগমকে তার পরিবারের সদস্যদের কাছে শিশু ফাতেমার মা ফজিলাকে হস্তান্তর করেন।

এ সময় ফজিলা বেগমের মা হাজেরা খাতুন, ভাই হারেজ আলী ও জুয়েল মিয়াসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ফজিলা বেগমের পরিবার জানায়, মাজারের দীঘিতে কুমিরের আক্রমণে শিশু ফাতেমার মৃত্যুর ঘটনা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হলে প্রকাশিত ছবি দেখে ফজিলা বেগমকে শনাক্ত করেন তার স্বজনরা। পরে পরিবারের ছয় সদস্য বুধবার ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চরখরিচা গ্রাম থেকে বাগেরহাটের উদ্দেশে রওনা হন এবং বৃহস্পতিবার সকালে সেখানে পৌঁছান।

ফজিলা বেগমের মা হাজেরা খাতুন বলেন, প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে আমার মেয়ে ফজিলা তার ছোট মেয়ে ফাতেমাকে নিয়ে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। তখন ফাতেমার বয়স ছিল তিন থেকে চার বছর। ফাতেমা পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট ছিল। বর্তমানে দুই ভাই ও দুই বোন জীবিত আছে। তাদের বাবা মমরুজ আলী রিকশা চালানোর পাশাপাশি কৃষিকাজ করেন। মেয়েকে ফিরে পেয়ে আমরা সবাই আনন্দিত, তবে ফাতেমার জন্য খুব কষ্ট হচ্ছে।

ফজিলা বেগমের ছোট ভাই মোহাম্মদ জুয়েল মিয়া বলেন, তিন বছরের বেশি সময় আগে আমার বোন হারিয়ে গিয়েছিল। আজ তাকে ফিরে পেয়ে আমরা আনন্দিত। তবে ভাগ্নি ফাতেমার মৃত্যুর কথা মনে হলে খুব খারাপ লাগে।

মানসিক ভারসাম্যহীন ফজিলা বেগম স্পষ্টভাবে কিছু বলতে না পারলেও বারবার একটি কথাই বলার চেষ্টা করেন, ‘আমি আমার মেয়েকে ছেড়ে যাব না।’

বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসা. আতিয়া খাতুন বলেন, ফজিলা বেগমের পরিবারের সদস্যরা সকালে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। এরপর সমাজসেবা বিভাগের কর্মকর্তা, বাগেরহাট সদর মডেল থানার প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে তাকে পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .