Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

নিলাম হয়নি, চারঘাট উপজেলা পরিষদ চত্বরের ৩০ গাছ ভাগ-বাটোয়ারার অভিযোগ

Icon

রাজশাহী ব্যুরো

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ১০:৪৭ পিএম

নিলাম হয়নি, চারঘাট উপজেলা পরিষদ চত্বরের ৩০ গাছ ভাগ-বাটোয়ারার অভিযোগ

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলা পরিষদ চত্বরে থাকা প্রায় ৩০টি আমগাছের ফল এবারও বিক্রি না করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, বছরের পর বছর ধরে একই প্রক্রিয়ায় সরকারি গাছের আম সংগ্রহ করে প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে।

তবে জেলা প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরকারি সম্পদের ক্ষেত্রে এ ধরনের বিতরণের কোনো সুযোগ নেই; নিয়ম অনুযায়ী প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে আম বিক্রি করে সেই অর্থ সরকারি তহবিলে জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে।

শুক্রবার (৫ জুন) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে দেখা গেছে, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের সামনে থাকা আমগাছ থেকে শ্রমিক ও কর্মচারীরা আম সংগ্রহ করছেন। ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৩০টি আমগাছ রয়েছে সেখানে।

কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গাছ থেকে নামানো আম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বাংলোয় নেওয়া হবে। পরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তা বণ্টন করা হবে।

তাদের দাবি, ইউএনও জান্নাতুল ফেরদৌসের নির্দেশেই আম সংগ্রহের কাজ চলছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতি বছর আমের মৌসুম এলেই সরকারি ছুটির দিনগুলোতে গোপনে বা সীমিত পরিসরে গাছ থেকে আম নামানো হয়। এরপর সেগুলো ইউএনওর বাংলোয় নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়। চলতি মৌসুমেও একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। এরই মধ্যে কয়েক দফায় আম নামিয়ে বিতরণ করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকেও বেশ কয়েকটি বড় গাছ থেকে হিমসাগর আম সংগ্রহ করতে দেখা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আম পাড়ার সময় সাধারণ মানুষকে ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকতে নিরুৎসাহিত করা হয়।

চারঘাট উপজেলা সদরের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, উপজেলা পরিষদ চত্বরে থাকা গাছগুলোতে এবার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আম ধরেছিল।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, সব মিলিয়ে প্রায় ৫০ মণ আম উৎপাদন হয়েছে। ইতোমধ্যে কিছু আম সংগ্রহ করা হয়েছে, শুক্রবারও বেশ কিছু আম নামানো হয়েছে এবং এখনও কয়েকটি গাছে আম রয়েছে।

তিনি মনে করেন, সরকারি সম্পদ ব্যক্তিগতভাবে ভাগাভাগি করার কোনো সুযোগ থাকা উচিত নয়। এসব আম প্রকাশ্য দরপত্র বা নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া প্রয়োজন ছিল। বিক্রি না করলে অন্তত দরিদ্র মানুষ, এতিমখানা বা সমাজকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানে বিতরণ করা যেত; কিন্তু বাস্তবে একটি আমও সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায় না; সবই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বণ্টন করা হয়।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সরকারি মালিকানাধীন গাছের ফল এভাবে সংগ্রহ করে ভাগ-বাটোয়ারা করার বিধান নেই। সাধারণত গাছে মুকুল আসার পর অথবা ফল পরিপক্ক হওয়ার সময় প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়। সর্বোচ্চ দরদাতার কাছে ফল বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ সংশ্লিষ্ট সরকারি তহবিলে জমা দিতে হয়। সরকারি সম্পদ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ব্যক্তিগতভাবে বণ্টনের সুযোগ নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌসকে তিনবার তার সরকারি নম্বরে ফোন দেওয়া হয়। তিনি ধরেননি। তবে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, উপজেলা পরিষদের আম কখনো বিক্রি করা হয় না। তার দাবি, এখানে কর্মরত কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং সরকারি কোয়ার্টারে বসবাসকারীদের মধ্যে আম বিতরণ করা হয়ে থাকে।

সরকারি গাছের আম প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করার নিয়ম রয়েছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘না, এটা বিক্রি করার কথা না। এটা এরকমভাবেই চলে আসছে। বহু বছর ধরেই এটা এভাবেই হয়ে আসছে।’

এ ঘটনায় সরকারি সম্পদের ব্যবস্থাপনা ও বিধিবিধান অনুসরণ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তারা মনে করছেন, সরকারি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .