ইউপি চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব হস্তান্তর নিয়ে সংঘর্ষ, ওসিসহ আহত অর্ধশতাধিক
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৫:৩৩ পিএম
একপর্যায়ে তাদের সমর্থনে গ্রামবাসী দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয়।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব হস্তান্তরকে কেন্দ্র করে বর্তমান চেয়ারম্যান ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বানিয়াচং থানার ওসিসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
সোমবার (৮ জুন) দুপুর ১২টা থেকে বেলা সোয়া ২টা পর্যন্ত উপজেলার বড়ইউড়ি গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বানিয়াচং থানার ওসি শেখ নাজমুল হক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৭নং বড়ইউড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফরিদ উদ্দিন আওয়ামী লীগের নেতা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত একাধিক হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেফতার হয়ে তিনি কারাগারে যান। পরে তাকে চেয়ারম্যান পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলে ইউপি সদস্য কফিল উদ্দিনকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
সম্প্রতি ফরিদ উদ্দিন আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান। মুক্তির পর তিনি উচ্চ আদালতে রিট করে চেয়ারম্যান পদ পুনর্বহাল করেন।
সোমবার তিনি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করতে ইউনিয়ন পরিষদে গেলে ফরিদ উদ্দিন ও কফিল উদ্দিনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তাদের সমর্থনে গ্রামবাসী দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। এতে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পরে দুপুর ১২টার দিকে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর বেলা সোয়া ২টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন। আহতদের বানিয়াচং ও হবিগঞ্জের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ওসি শেখ নাজমুল হক জানান, সংঘর্ষে তিনিসহ চারজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তারা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ তিন রাউন্ড টিয়ারশেল ও চার রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। সংঘর্ষে জড়িতদের আটক করতে অভিযান চলছে এবং গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।
