পরকীয়ায় অভিযুক্ত বিএনপি নেতা দল থেকে বহিষ্কার, প্রথম স্ত্রী-সন্তানদের মারধরে আহত
মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:৫২ পিএম
সফিক সিকদার। ফাইল ছবি।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পরকীয়ার অভিযোগে এক বিএনপি নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক হারুন অর রশিদ স্বাক্ষরিত দলীয় প্যাডে তাকে বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়। অভিযুক্ত সফিক সিকদার বাঁশতৈল ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
এদিকে পরকীয়ার ঘটনায় আটক ও বিয়ের পর নিজবাড়িতে ফিরলে প্রথম স্ত্রী ও সন্তানদের মারধরে তিনি আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহত অবস্থায় তাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত ১২টার দিকে উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের সোনালিয়া গ্রামে এক নারীর বাড়ি ঘেরাও করে সফিক সিকদার ও সাবিনা আক্তারকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করেন স্থানীয়রা। পরে তাদের গণধোলাই দিয়ে স্থানীয় মাতুব্বরদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
সফিক সিকদার একই ওয়ার্ডের কটামারা গ্রামের রহমান সিকদারের ছেলে।
পরে মঙ্গলবার সকালে পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে কটামারা জামে মসজিদে সাবিনা আক্তার ও সফিক সিকদারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাকে নিজবাড়িতে নিয়ে গেলে তার প্রথম স্ত্রী মালেকা বেগম, ছেলে আল আমিন ও মেয়ে ইমা আক্তার মিলে তাকে মারধর করেন। এতে সফিক সিকদার গুরুতর আহত হন এবং তার দুটি দাঁত ভেঙে যায় বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে মির্জাপুর উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, রাতে মীমাংসার সময় আমি উপস্থিত ছিলাম। তবে বিয়ে ও মারধরের বিষয়ে আমার জানা নেই।
এর আগে বাঁশতৈল ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক আতাউর রহমান ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নান, উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন আল আজাদ, বাঁশতৈল ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম আক্কাছ এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কিয়াম উদ্দিনসহ স্থানীয়রা উপস্থিত হন।
স্থানীয়দের উপস্থিতিতে উভয়পক্ষের সম্মতিতে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হয় বলে জানা গেছে।
বাঁশতৈল ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক আতাউর রহমান বলেন, নারী-পুরুষ আটকের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। পরে রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতিতে মীমাংসার উদ্যোগ চলাকালে আমরা চলে আসি।
ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নান বলেন, রাতেই দুইজনের সম্মতিতে পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ের সিদ্ধান্ত হয়। পরে রাত ২টার দিকে নেতারা তাদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান।
