স্বাস্থ্যসেবায় মাগুরা কারাগারে নতুন দৃষ্টান্ত
আবু বাসার আখন্দ, মাগুরা
প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১০:৪০ পিএম
কারা অভ্যন্তরে বয়স্ক বন্দিদের বিশেষ স্বাস্থ্য পরীক্ষা কর্মসূচি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কারাগার মানেই কেবল শাস্তি নয়- সংশোধন ও মানবিকতার জায়গা হিসেবেও গড়ে তোলা সম্ভব। সেই দৃষ্টান্ত স্থাপনে এগিয়ে এসেছে মাগুরা জেলা কারাগার। সেখানে প্রথমবারের মতো বয়স্ক বন্দিদের বিশেষ স্বাস্থ্য পরীক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমে সেবা নিশ্চিত করে আলোচনায় এসেছে কারাগারটি।
মঙ্গলবার সকালে কারা অভ্যন্তরে আয়োজিত এ কর্মসূচির আওতায় পঞ্চাশোর্ধ ৪৫ জন বন্দির রক্ত সংগ্রহ করে লিপিড প্রোফাইল, সিরাম ক্রিয়েটিনিন, ইসিজি, আরবিএসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবাও দেওয়া হয়।
এ উদ্যোগের পেছনে রয়েছে একটি মানবিক বাস্তবতা। মাগুরা জেলা কারাগারে ৩০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ৯৫ বছরের কয়েদি জলিল উদ্দিন মোল্যার মতো অনেক বয়স্ক বন্দি রয়েছেন। রয়েছেন ৭০ বছরের সাইফুল ইসলাম। যারা দীর্ঘদিন ধরে নানা জটিল রোগে ভুগছেন। কিন্তু কারাগারের সীমাবদ্ধতায় তাদের নিয়মিত চিকিৎসা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
সকাল ৯টায় শুরু হওয়া কর্মসূচির উদ্বোধন করেন মাগুরা সিভিল সার্জন ডা. শামীম কবির। এতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহসিন উদ্দিন ফকির। এছাড়া কারা হাসপাতালের সহকারী সার্জন ডা. এজাজ আহম্মেদ রোচি ও ডিপ্লোমা নার্স বদিউজ্জামান উপস্থিত থেকে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
চিকিৎসক ও সচেতন মহল এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় হিসেবে দেখছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নিয়মিত এ ধরনের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালু থাকলে কারাগারে মৃত্যুহার কমবে এবং বন্দিদের জীবনমান উন্নত হবে।
মাগুরা সিভিল সার্জন ডা. শামীম কবির বলেন, স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার। কারাগারে থাকা ব্যক্তিরাও এর বাইরে নয়। মাগুরা কারাগারের এ উদ্যোগ সারা দেশে চালু করা গেলে বন্দিদের মৃত্যুঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে এবং কারাগার সত্যিকার অর্থে সংশোধনাগারে রূপ নিতে পারবে।
অন্যদিকে মাগুরা জেলা কারাগারের জেল সুপার শেখ মো. মহিউদ্দিন হায়দার জানান, কারাগারটির ধারণক্ষমতার তুলনায় বর্তমানে দ্বিগুণেরও বেশি বন্দি অবস্থান করছেন। এতে বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি সাজাপ্রাপ্ত বয়স্ক বন্দিদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। তাদের মানবিক অধিকার বিবেচনায় কারা মহাপরিদর্শকের নির্দেশনায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এটি নিয়মিত করার চেষ্টা থাকবে বলে জানান তিনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাগুরা জেলা কারাগারের এ উদ্যোগ শুধু একটি স্বাস্থ্য কর্মসূচি নয়, বরং এটি দেশের কারা ব্যবস্থাকে মানবিক ও আধুনিক করার একটি সম্ভাবনাময় মডেল হয়ে উঠতে পারে।
