Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

সাড়ে ৭ কিলোমিটার জার্মানি পতাকা প্রদর্শন, ফের উন্মাদনায় মাতলেন সেই কৃষক

Icon

আবু বাসার আখন্দ, মাগুরা

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম

সাড়ে ৭ কিলোমিটার জার্মানি পতাকা প্রদর্শন, ফের উন্মাদনায় মাতলেন সেই কৃষক

সাড়ে ৭ কিলোমিটার জার্মানি পতাকা প্রদর্শন

বিশ্বকাপ ফুটবল এলেই নতুন এক উন্মাদনায় মাতেন মাগুরার কৃষক আমজাদ হোসেন। প্রিয় দল জার্মানির প্রতি ভালোবাসা থেকেই তিনি আবারও হাজির হয়েছেন সাড়ে ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ পতাকা নিয়ে।

বুধবার (১০ জুন) দুপুরে সদর উপজেলার ঘোড়ামারা গ্রামের কৃষক আমজাদ স্থানীয় নিশ্চিন্তপুর স্কুল মাঠে এই বিশাল পতাকা প্রদর্শন করে স্থানীয়দের দৃষ্টি কাড়েন। আর এই পতাকাকে ঘিরেই মাগুরার প্রত্যন্ত এই গ্রামটি আজ পরিণত হয়েছিল গোটা দেশের জার্মানি সমর্থকদের মিলনমেলায়।

৭৪ বছরের এই জার্মান ভক্তের যাত্রা শুরু আরও এক দশক আগে। ২০০৬ ও ২০১০ সালে ফুটবল বিশ্বকাপের আগে বিশাল পতাকা বানিয়ে নজর কাড়েন সবার। এরপর ২০১৪ সালে নিজের ৩০ শতক জমি বিক্রি করে সাড়ে ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ জার্মানির পতাকা তৈরি করে প্রথমবার আলোচনায় আসেন তিনি। সেই সময় ঢাকার জার্মান দূতাবাসের কর্মকর্তারা মাগুরায় এসে তাকে সংবর্ধনা দেন এবং জার্মানির অফিশিয়াল ফুটবল ক্লাবের সদস্যপদের স্বীকৃতিও প্রদান করেন।

এরপরও থেমে থাকেননি আমজাদ। ২০১৮ বিশ্বকাপে আরও ১০ শতক জমি বিক্রি করে তৈরি করেন সাড়ে ৫ কিলোমিটার পতাকা। ২০২২ সালে সেই পতাকার সঙ্গে আরও ২ কিলোমিটার যুক্ত করে দাঁড় করান সাড়ে ৭ কিলোমিটারের নতুন রেকর্ড। এবারও সেই পতাকা নিয়েই গ্রামের পথে ব্যান্ড বাজিয়ে মিছিল করেছেন তিনি। এতে গ্রামের শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বয়স্ক মানুষ পর্যন্ত অংশ নেন। এমনকি জেলা বিএনপির কয়েকজন নেতাও শহর থেকে এসে এই ব্যতিক্রমী আয়োজনে যোগ দেন।

জানা যায়, ২০০৪ সালে অসুস্থ হয়ে পড়লে জার্মান ওষুধ সেবনের মাধ্যমে সুস্থ হয়ে ওঠেন আমজাদ হোসেন। সেই থেকেই জার্মানির প্রতি তার এক বিশেষ টান তৈরি হয়, যা পরে ফুটবলপ্রেমে রূপ নেয়। বিশ্বকাপ এলেই নিজের হাতে তৈরি পতাকা নিয়ে নেমে পড়েন উদযাপনে।

আমজাদ হোসেন বলেন, ২০০৬ সালে প্রথম দেড় কিলোমিটার পতাকা বানিয়েছিলাম। তখন গ্রামের মানুষ জার্মান ফুটবলের সমর্থক না হলেও আমাকে সহযোগিতা করেছে। এখন পতাকা এত বড় হয়েছে যে শহরে নিলে যানজট তৈরি হয়, তাই মাঠেই প্রদর্শন করি।

তিনি আরও বলেন, জার্মান দূতাবাসের কর্মকর্তারা আমার বাড়িতে এসেছেন, আমাকে সম্মান দিয়েছেন-এটা আমার জীবনের বড় অর্জন। শুরুতে পরিবারের কেউ উৎসাহ না দিলেও এখন সবাই পাশে আছেন।

জীবনের শেষপ্রান্তে দাঁড়িয়েও স্বপ্ন দেখেন এই প্রবীণ কৃষক। তার কথায়, বয়স হয়ে গেছে, কিন্তু মৃত্যু পর্যন্ত প্রিয় দলের জন্য কিছু করে যেতে চাই। যদি ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ পর্যন্ত বেঁচে থাকি, তাহলে ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ পতাকা তৈরি করব।

গ্রাম-বাংলার এক সাধারণ কৃষকের এই অসাধারণ আবেগ আর উদ্যোগ ইতোমধ্যেই অনন্য নজির হয়ে উঠেছে।

ঘটনাপ্রবাহ: ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬


আরও পড়ুন

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .