রাগ করে ভারতে ঢুকে পড়ে জয়নাব
দিনভর পুশইন-পুশব্যাক নাটক, রাতে শিশুকে ফেরত নিল বিজিবি
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৫:২৪ পিএম
শিশুকে ফেরত নিল বিজিবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার দক্ষিণ অনন্তপুর নাজিরহাট সীমান্তে দিনভর পুশইন-পুশব্যাক নাটকীয়তার পর বাংলাদেশি শিশুকে রাতে ফেরত নিয়েছে বিজিবি।
শিশুটির নাম জয়নাব বেগম (৯)। সে মধ্য কাশিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং মধ্যকাশিপুর ঘগোয়ারপাড় গ্রামের জামাল হোসেনের কন্যা। শিশুটি রাগ করে বাড়ি থেকে চলে যায় এবং ভারতের ভিতরে ঢুকে পড়ে।
শনিবার দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে ওই সীমান্তের আন্তর্জাতিক মেইন পিলার ৯৪৩ এর ৩ এস এর কাছে খায়রুল ইসলামের বাড়ির পেছনের বাঁশ বাগানে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে সংক্ষিপ্ত পতাকা বৈঠকের পর শিশুটিকে ফেরত নেওয়া হয়। পরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যের উপস্থিতিতে শিশুটিকে তার বাবা-মায়ের কাছে হস্তান্তর করে বিজিবি।
পতাকা বৈঠকে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীন কাশিপুর বিওপির সুবেদার ইব্রাহিম বিজিবি দলের নেতৃত্ব দেন। তবে বিএসএফ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে কে ছিলেন তা জানাতে পারেনি বিজিবি পক্ষ।
কাশিপুর ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মানিক জানান, শনিবার দুপুর ১টার দিকে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ৯৪৩ এর সাব-পিলার ৩ এর কাছাকাছি এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ এক কন্যাশিশুকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে। বিএসএফের এমন প্রচেষ্টার বিপরীতে শক্ত অবস্থান নেয় বিজিবি। শিশুটিকে কেন্দ্র করে দুপুর গড়িয়ে বিকাল পর্যন্ত চলে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পুশইন-পুশব্যাক নাটক। পরে শেষ বিকালের দিকে বিএসএফ শিশুটিকে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায়।
এদিকে শিশুটির মা তার সন্তানকে খুঁজতে খুঁজতে সীমান্তে এসে জানতে পারেন ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফের হাতে এক কন্যাশিশু আটক হয়েছে। পরে তিনি নিশ্চিত হন ওই শিশুকন্যা তারই। বিষয়টি বিজিবিকে জানালে তারা বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে।
শিশুটির মা নাজমা বেগম জানান, তার শিশুকন্যা মধ্য কাশিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বেলা ১১টার দিকে স্কুলে পাঠানোর সময় সে খাবারের বায়না ধরে; কিন্তু তিনি খাবার না দিয়ে তাকে স্কুলে পাঠিয়ে দেন। পরে দুপুর ১২টায় খাবারের জন্য বাড়ি এলে তার বাবা স্কুল থেকে বাড়ি আসার কারণে রাগারাগি করেন। স্কুলে গিয়ে স্কুল শেষ করে বাড়িতে এসে খাবার খেতে বলেন। এতে শিশুটি অভিমান করে ওই সীমান্তের বিপরীতে ভারতের কোচবিহার জেলার দিনহাটা থানার সেউটি এলাকায় ঢুকে পড়ে। বিএসএফ তাকে আটক করে বিজিবির কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ গ্রহণ করে। বিজিবি পুশইন ভেবে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়।
এদিকে তার মা স্কুলে গিয়ে দেখেন তার মেয়ে স্কুলে নাই। তিনি এদিক ওদিক মেয়েকে খুঁজতে থাকেন। পরে তিনি জানতে পারেন তার মেয়ে সীমান্তে গেছে এবং বিএসএফ তাকে ভারতের অভ্যন্তরে ধরে নিয়ে গেছে।
শিশুটি বাংলাদেশি এমন তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর পতাকা বৈঠকের উদ্যোগ নেয় বিজিবি। রাত ১১টা ৩০ মিনিটে বিজিবি বিএসএফের মধ্যে ১৫ মিনিটের মতো পতাকা বৈঠকের পর রাত পৌনে ১২টার দিকে শিশুটিকে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে বিজিবির কাছে ফেরত দেওয়া হয়। পরে চেয়ারম্যান তার বাবা-মায়ের কাছে শিশুটিকে তুলে দেন।
এ সময় কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মানিক, ইউপি সদস্য ফেরদৌস আলমসহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।
