Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

ভাঙন ঠেকাতে নদীর ভাঙা স্থান থেকেই বালু উত্তোলন!

Icon

সাদুল্লাপুর (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৯:৫৪ পিএম

ভাঙন ঠেকাতে নদীর ভাঙা স্থান থেকেই বালু উত্তোলন!

স্থানীয়দের দাবি, এই স্থান থেকে বালু না তুলে অন্যত্র থেকে বালু এনে জিওব্যাগ ভর্তি করা উচিত ছিল।

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলা দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘাঘট নদীভাঙন রক্ষা প্রকল্পের কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের জিওব্যাগ ব্যবহার এবং ভাঙন স্থানেই মেশিন বসিয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলনের কারণে ফের ভাঙন দেখা দেওয়ার শঙ্কায় ভুগছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। 

তাদের দাবি, এই স্থান থেকে বালু না তুলে অন্যত্র থেকে বালু এনে জিওব্যাগ ভর্তি করা উচিত ছিল।

সোমবার (১৫ জুন) সরেজমিন উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের সিট জামুডাঙ্গার মুন্সীপাড়া ও পাটনীপাড়া এলাকায় এসব অনিয়মের চিত্র দেখা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মুন্সীপাড়া ও পাটনীপাড়া এলাকায় ঘাঘট নদীর তীব্র ভাঙনে নদীতীরের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি বিলীন হয়ে যায়। এতে আরও কয়েকটি পরিবার ঝুঁকিতে পড়ে। দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সেখানে ভাঙন রক্ষা প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। এ কাজে বালু সরবরাহের দায়িত্ব পান স্থানীয় হাসেন আলী হাসান নামের এক ব্যক্তি।

অভিযোগ রয়েছে, তিনি জিওব্যাগের জন্য বালু অন্য স্থান থেকে না এনে ভাঙনস্থলেই নদীতে শ্যালোমেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করছেন। সেখানে রাতভর মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন চলতে থাকে। এতে আবারও ভাঙনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে নিম্নমানের জিওব্যাগ ব্যবহারের কারণেও কাজের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

একাধিক স্থানীয় ভুক্তভোগী বলেন, হাসান দীর্ঘদিন ধরে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে ব্যবসা করছেন। স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশ করে তিনি ভাঙন রক্ষা কাজের বালু সরবরাহের দায়িত্ব পান। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভাঙনস্থলেই মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করছেন তিনি। এতে সাময়িকভাবে ভাঙন রোধ হলেও তা টেকসই হচ্ছে না। কিছুদিন পর জিওব্যাগ ফেটে বা ধসে আবারও ভাঙন দেখা দিচ্ছে।

এ বিষয়ে হাসান বলেন, ইতোপূর্বেও ভাঙনস্থলের নদী থেকেই বালু তুলে ভাঙন রক্ষা কাজ করা হয়েছে। এভাবেই মুন্সীপাড়া ও পাটনীপাড়ায় ভাঙন রক্ষায় নদী থেকেই বালু তোলা হচ্ছে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদ্দিন বলেন, ভাঙন রক্ষায় নদীতে মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলনের বিষয়টি দেখার দায়িত্ব আমার নয়। এ বিষয়ে ইউএনও স্যারের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।

সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান বলেন, বিষয়টি নিয়ে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা বলুন। তবে আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখার চেষ্টা করব।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, গাইবান্ধার নির্বাহী প্রকৌশলীর মোবাইলে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .