Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

কিডনি দিয়ে স্বামীকে বাঁচাতে চান ফাহিমা, টাকার অভাবে পারছেন না

Icon

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম

কিডনি দিয়ে স্বামীকে বাঁচাতে চান ফাহিমা, টাকার অভাবে পারছেন না

ফাহিমা ও জহের

জহের-ফাহিমার দাম্পত্য জীবন ২৬ বছরের। অঢেল সম্পদ না থাকলেও সুখের কমতি ছিল না তাদের সংসারে। হঠাৎ করেই স্বামী জহের আক্রান্ত হন কিডনি রোগে। চিকিৎসার খরচ জোগাতে গিয়ে জমিজমা বিক্রি করে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা। শুরু হয় তাদের অভাবের সংসার।

নিজের কিডনি দিয়ে স্বামীকে বাঁচাতে চান ফাহিমা। টাকার অভাবে তাও পারছেন না তিনি।

সোমবার (১৫ জুন) সন্ধ্যায় মির্জাপুর প্রেস ক্লাবে এসে ফাহিমা এ কষ্টের কথা সাংবাদিকদের জানান। এ সময় কিডনি রোগে আক্রান্ত তার স্বামী জহের আলী সিকদার ও বড় মেয়ে যুথী আক্তার উপস্থিত ছিলেন।

ফাহিমা জানান, টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার তরফপুর গ্রামের ছামান উদ্দিন সিকদারের ছেলে জহের আলী সিকদার। ২০০০ সালে পারিবারিকভাবে উপজেলার আজগানা ইউনিয়নের তেলিনা গ্রামের সালাম মিয়ার মেয়ে ফাহিমার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। অঢেল ধন সম্পদের মালিক না হলেও তাদের সংসারে ছিল সুখ। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে স্বামী জহের আলী সিকদারের ধরা পড়ে কিডনি রোগ। গত পাঁচ মাস ধরে প্রতি সপ্তাহে দুইবার নিতে হচ্ছে ডায়ালাইসিস। এ পর্যন্ত চিকিৎসায় খরচ হয়েছে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা।

তিনি বলেন, আমার স্বামী এখন মৃত্যুর প্রহর গুনছেন। স্বামীকে আমার কিডনি দিয়ে বাঁচিয়ে রাখতে চাই। কিডনি দিতে প্রয়োজন অপারেশনের; কিন্তু এই অপারেশনের প্রয়োজনীয় টাকা নেই আমার কাছে। কিডনি প্রতিস্থাপন করতে ব্যয় হবে ৬ লাখ টাকা। ইতোমধ্যে চিকিৎসায় খরচ হয়েছে সাড়ে ৪ লাখ টাকা। এখনও প্রতি সপ্তাহে ডায়ালাইসিস ও ওষুধ খরচ মিলিয়ে প্রায় ৮ হাজার টাকা খরচ হয়। আত্মীয়স্বজনদের সহযোগিতা নিয়ে এ পর্যন্ত চিকিৎসা চালিয়েছি। সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের সহায়তা পেলে নিজের একটি কিডনি দিয়ে স্বামীকে সুস্থ করে তুলতে চান ফাহিমা।

ফাহিমা আরও বলেন, স্বামী অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালাতেন। পরিবারে রয়েছে দুই মেয়ে ও দুই ছেলে। বড় মেয়ে যুথী এইচএসসি পাশ করলেও অর্থের অভাবে এখন পড়াশোনা বন্ধ করেছে। ছোট মেয়ে জুই এসএসসি পরীক্ষার্থী এবং ছোট ছেলে ফয়সাল ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। বড় ছেলে ফাহাদ অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালান।

জহের সিকদার ঢাকা কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সহায় সম্বলহীন হয়ে এখন আমাদের এমন অবস্থা হয়েছে, স্বামীর চিকিৎসা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমি সবসময় মোটা কাপড় মোটা ভাত চেয়েছিলাম। পেয়েছিলাম তাই; কিন্তু কিডনি রোগ আমার সব কেড়ে নিচ্ছে। সরকার এবং সমাজের বিত্তবানরা যদি আমাদের সহায়তায় এগিয়ে আসেন তবে স্বামীর চিকিৎসা করে আর কিছুদিন সুখের মুখ দেখে যেতে পারব।

জহের সিকদার বলেন, চিকিৎসা করতে গিয়ে আমি নিঃস্ব হয়ে পড়েছি। এখন উপার্জন করার ক্ষমতা নেই আমার। সংসারের খরচ জোগাতে পারছি না। স্ত্রী ফাহিমা তার নিজের কিডনি দিতে চেয়েও দিতে পারছে না আর্থিক সংকটের কারণে। সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে এলে আমি হয়তবা আর কিছুদিন এই পৃথিবীর আলো দেখে যেতাম।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন বলেন, ওই কিডনি রোগী চিকিৎসার জন্য আবেদন করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .