শিক্ষার্থীর শ্লীলতাহানির অভিযোগে বিক্ষোভ, অভিযুক্ত শিক্ষকের দাবি ‘চক্রান্ত’
মাগুরা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:৪৯ পিএম
অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে ।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মাগুরার শ্রীপুরে হাট দারিয়াপুর সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী শ্লীলতাহানির অভিযোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মহসিন আলী বিশ্বাস। বিদ্যালয়ের সভাপতি নিয়োগকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষকের চক্রান্তের অংশ হিসেবে তাকে ফাঁসানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা স্থানীয় বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম প্রদীপ, মতিয়ার চেয়ারম্যান, সাখাওয়াত মাস্টারসহ কয়েকজন অভিভাবককে সঙ্গে নিয়ে সাচিলাপুর বাজারে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।
পরে বিদ্যালয় চত্বরে অনুষ্ঠিত সমাবেশে তারা অভিযোগ করেন, শিক্ষক মহসিন বিশ্বাস শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন—এটি এলাকাবাসীর কাছে পরিচিত বিষয়। তার বিরুদ্ধে একাধিকবার সালিশ-বিচার হয়েছে। তবে তিনি নিজের আচরণ পরিবর্তন করেননি। এ কারণে তারা তার অবিলম্বে অপসারণ দাবি করেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজী ইমাম হোসেন বলেন, ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগে ওই ছাত্রীর মা বৃহস্পতিবার সকালে সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক মহসিন আলী বিশ্বাসের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিস এবং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে।
তবে অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবি করেছেন অভিযুক্ত শিক্ষক মহসিন আলী বিশ্বাস। তিনি বলেন, বিদ্যালয়ে নতুন পরিচালনা কমিটির সভাপতি নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। বিদ্যালয় পরিচালনার স্বার্থে তারা প্রধান শিক্ষকের কাছে আলমগীর হোসেন নামের একজন শিক্ষানুরাগী রাজনৈতিক নেতাকে সভাপতি হিসেবে প্রস্তাব দেন; কিন্তু প্রধান শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান নামে স্থানীয় এক ব্যক্তির পক্ষে অবস্থান নেন। এর জেরেই তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে শিক্ষার্থীদের উসকে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ যাচাই করলে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে।
এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল গণি জানান, অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিটি ১০ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে।
