বাড়ছে পানি, তিস্তা ব্যারাজের ৪৪ জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে
নীলফামারী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৮:৪০ পিএম
তিস্তা ব্যারাজ। ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
উজানের পাহাড়ি ঢলে মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকাল ৩টা থেকে নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। পরে সন্ধ্যা ৬টায় পানি কমে বর্তমানে বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা সতর্কীকরণ ও পূর্বাভাস কেন্দ্রের পানি পরিমাপক নুরুল ইসলাম জানান, তিস্তার পানি মঙ্গলবার ভোররাত থেকে বাড়তে শুরু করে। তিস্তায় সকাল ৬টায় পানি ছিল ৫২.০৫ সেন্টিমিটার; যা বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার নিচে। এ পয়েন্টে নদীর বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার। দুপুর ১২টায় পানি কমে দাঁড়ায় ৫২ দশমিক ০০ সেন্টিমিটার, যা বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচে ছিল। এরপর দুপুর ২টা থেকে হঠাৎ করে তিস্তায় পানি বাড়তে থাকে এবং বিকাল ৩টায় বিপদসীমা অতিক্রম করে ১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মাত্র ৩ ঘণ্টার ব্যবধানে তিস্তা নদীর পানি ১৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেলেও এখন তা আবারও বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে বলে তিনি জানান।
তিস্তার পানি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে বলে নুরুল ইসলাম জানান।
এদিকে তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় নীলফামারীর ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের মানুষজনের মাঝে চরম আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে নিম্নাঞ্চলে বানের পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
ডিমলা উপজেলার খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তিস্তা নদীর পানি হু হু করে বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চলে প্রবেশ করতে শুরু করেছে। এভাবে পানি বাড়তে থাকলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তলিয়ে যাবে নিম্নাঞ্চলের বাড়িঘর।
তিনি আরও বলেন, উজান থেকে নামা ঢলের পানি প্রচণ্ড ঘোলা।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, উজানের ঢলে ৩ ঘণ্টার ব্যবধানে তিস্তা নদীর পানি ১৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিকাল ৩টা থেকে বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাটই খোলা রাখা হয়েছে।
