স্বামীর সংসারে ফিরেছেন যমজ কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ায় তালাকপ্রাপ্ত সেই নারী
মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০২:৩০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঝিনাইদহের মহেশপুরে যমজ কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ায় স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার অভিযোগ তোলা রীনা খাতুন আবারও স্বামীর সংসারে ফিরেছেন।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) থানা পুলিশের হস্তক্ষেপে স্বামী রাকিবুল ইসলামের উপজেলার কাজিরবেড় ইউনিয়নের কোলা গ্রামের সংসারে ফিরেছেন রীনা। এর আগে কাজী ডেকে থানার ভেতরে শরীয়াহ মোতাবেক পুনরায় বিয়ে দেওয়া হয় তাদের।
জানা গেছে, পুরাতন কোলা গ্রামের প্রয়াত পীর বক্সের মেয়ে রীনা খাতুনের (২২) সঙ্গে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে নতুন কোলা গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে রাকিবুলের বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর তিনি অন্তঃসত্ত্বা হন রীনা। পরে চিকিৎসকদের মাধ্যমে জানতে পারেন, তার গর্ভে যমজ কন্যাসন্তান রয়েছে। এ খবর জানার পর থেকেই রাকিবুলের পরিবারের আচরণ বদলে যায়।
ভুক্তভোগী রীনার দাবি করেছিলেন, গর্ভে কন্যাসন্তান রয়েছে এ কথা জানার পর থেকেই তাকে নানা ধরনের মানসিক চাপ দেওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে নির্যাতন শারীরিক পর্যায়েও পৌঁছায়। পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠলে তিনি বাবার বাড়িতে চলে যান। প্রায় ছয় মাস আগে সেখানে থেকেই একটি বেসরকারি ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দুটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন।
রীনার অভিযোগ ছিল, জন্মের পর থেকে প্রায় ছয় মাস বয়সি যমজ সন্তান দুটির কোনো খোঁজখবর নেয়নি রাকিবুলের পরিবার। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সমাধান মেলেনি। থানা-পুলিশের শরণাপন্ন হয়েও কোনো প্রতিকার পাননি বলে দাবি তার। এর মধ্যেই কয়েক দিন আগে ডাকযোগে স্বামী রাকিবুলের পাঠানো তালাকনামা হাতে পান রীনা।
এর আগে যমজ কন্যা সন্তান নিয়ে মায়ের বাড়িতে থাকাকালীন তালাক নোটিশ পাঠান স্বামী রাকিবুল ইসলাম। একাধিক গণমাধ্যম যমজ কন্যা সন্তান হওয়ায় স্ত্রীকে তালাক শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে।
এদিকে যমজ কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ায় তালাকের অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেন রাকিবুল। এরপর অভিযোগ-পালটা অভিযোগ শেষে উভয় পরিবারকে থানায় ডেকে নিয়ে ওসি মেহেদী হাসানের মধ্যস্থতায় সমস্যার সমাধান হয়।
এ ব্যাপারে ওসি মেহেদী হাসান যুগান্তরকে বলেন, সমস্যার সমাধানে ছেলে-মেয়ে ও উভয় পরিবারের লোকজনকে থানায় ডেকে আনা হয়। যমজ শিশুদের ভবিষ্যত ও মানবিক দিক বিবেচনা করে দুজনকে মিলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা আলোচনা করেছি। তবে যমজ বাচ্চাদের মা-বাবাকে এক করতে পারায় আনন্দিত হয়েছি।
