Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

হাত দিয়ে টানলেই উঠে আসছে সড়কের পিচঢালাই!

Icon

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০৮:২০ পিএম

হাত দিয়ে টানলেই উঠে আসছে সড়কের পিচঢালাই!

হাত দিয়ে টানলেই উঠে আসছে সড়কের পিচঢালাই

খুলনার কয়রা উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে বাস্তবায়নাধীন মাদারবাড়িয়া হতে রোনবাগ অভিমুখে একটি সড়ক উন্নয়নে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দায়সারাভাবে কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে বলে ফুসে উঠেছেন স্থানীয়রা। হাত দিয়ে টানলেই উঠে আসছে সড়কের পিচঢালাই।

শুধু তাই নয়, প্রাইমকোড ছাড়াই সড়কটিতে পিচঢালাই দেওয়ার সময় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী প্রতিবাদ করলে ঠিকাদারের লোকজন কাজ ফেলে চলে গেছে।

কয়রা উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী দপ্তর সূত্রে জানা যায়, উপজেলার উত্তর মাদারবাড়িয়া সীমানা থেকে রোনবাগ কেয়ার সড়ক এবং হড্ডা-বেদকাশী সড়ক পাকাকরণের (কার্পেটিং) কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কামরুল এন্ড ব্রাদার্স। সড়ক দুটি নির্মাণে প্রায় ২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়। ২০২৪ সালের ৩ এপ্রিল কাজ শুরু হয়ে একই বছরের ১৪ নভেম্বর প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার কথা। তবে মেয়াদের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

পরবর্তীতে প্রকল্পটি রিপেকেজিং হয়ে হড্ডা-বেদকাশী সড়ক বাদ দিয়ে উত্তর মাদারবাড়ী সীমানা থেকে রোনবাগ কেয়ার পর্যন্ত এক কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নের জন্য সময় বাড়ানো হয় এবং বরাদ্দ কমানো হয়। তবে অফিসে গিয়েও বর্ধিত সময় ও বরাদ্দের তথ্য পাওয়া যায়নি।

২৪ জুন দুপুরে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় ৫০০ মিটারের মতো রাস্তায় পিচের ঢালাই দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে চারটি স্থানে পিচ উঠানো দেখা যায়। গাইডওয়ালের কয়েকটি স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় আব্দুর রহমান সরদার, আল আমিনসহ কয়েকজন জানান, সড়ক নির্মাণে পাথরের মিশ্রণে প্রয়োজনীয় পরিমাণ বিটুমিন ব্যবহার করা হচ্ছে না। দায়সারা প্রাইম কোড দিয়ে পিচ ঢালাই দেওয়া হচ্ছে। রাস্তার উপরে পড়ে থাকা ময়লা অপসারণ করা হয়নি। ফলে এক সপ্তাহ  আগের ঢালাইও হাতের টানে উঠে যাচ্ছে। এছাড়া কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই প্রকল্পের আওতায় নির্মিত গাইডওয়ালের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে নির্মাণকাজের মান নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

তাদের আশঙ্কা, এভাবে কাজ চলতে থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কের পিচ উঠে গিয়ে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়বে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলতে গেলে সংশ্লিষ্টরা কোনো সদুত্তর না দিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। পিচ ঢালাইয়ের সময় এলজিইডির দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীদের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও অধিকাংশ সময় তাদের কাজের স্থানে দেখা যায়নি। ফলে ঠিকাদারের লোকজন ইচ্ছামতো কাজে অনিয়মের সুযোগ পেয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জামাল ফারুক জাফরিন বলেন, নিম্ন মানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করা হয়েছে। যে কারণে স্থানীয়রা কাজে বাঁধা প্রদান করেছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কাজ তদারককারী (সাব-কন্ট্রাক্টর) হাসান শেখ বলেন, ঠিকমতো প্রাইম কোড করা হয়েছিল, তবে বৃষ্টির কারণে কিছু অংশ ধুয়ে গেছে। আমরা ১৮ মাইল এলাকার বাবলু ভাইয়ের প্ল্যান্ট থেকে মিশ্রণ এনে কাজ করছি। যেসব স্থানে ত্রুটি হয়েছে সেগুলো সমাধান করে দেওয়া হবে।

কয়রা উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী দপ্তরের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী শাফিন শোয়েব বলেন, রাস্তার ব্যাপারে অভিযোগ পেয়েছি। বিটুমিনের রাস্তা জমাট বাঁধতে কিছুদিন সময় লাগে। কিছু অংশে প্রাইমকোড করা হয়েছিল। সেখানে পরিমাণে কম দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ক্রুটিপূর্ণ স্থানে পুনরায় প্রাইমকোড করে ঢালাই দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .