পুশইন আশঙ্কায় মাধবপুর সীমান্তে কড়া অবস্থানে বিজিবি
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম
পুশইন, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে প্রশাসন, বিজিবি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে জরুরি সভা
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক সম্ভাব্য অবৈধ পুশইন, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে প্রশাসন, বিজিবি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
চৌমুহনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান সোহাগের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান। এছাড়া বক্তব্য দেন- মাধবপুর থানার ওসি সোহেল রানা, ধর্মঘর বিজিবি কোম্পানি কমান্ডার সিরাজুল ইসলাম, রাজেন্দ্রপুর বিজিবি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার আক্তারুজ্জামান, অধ্যক্ষ মোহন মিয়া, বিএনপি নেতা ফরিদ মিয়া ও ছায়েদ মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
সভায় সীমান্ত এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক পাচার এবং চোরাচালান প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের যেকোনো সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে দ্রুত প্রশাসন ও বিজিবিকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়।
ধর্মঘর বিজিবি কোম্পানি কমান্ডার সিরাজুল ইসলাম সভায় জানান, মাধবপুর সীমান্তের বিপরীতে ভারতীয় অংশে বিএসএফের নজরদারির মধ্যে প্রায় ৩০০ নারী-পুরুষকে জড়ো করা হয়েছে বলে তারা তথ্য পেয়েছেন। সুযোগ পেলেই তাদের বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করা হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল ও নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবির সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। সম্ভাব্য যেকোনো পুশইন প্রতিরোধে সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং গোয়েন্দা তৎপরতাও জোরদার করা হয়েছে।
সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা সীমান্ত রক্ষায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তারা সীমান্ত এলাকার জনগণকে সর্বদা সজাগ থাকার আহ্বান জানান।
সভা শেষে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের উদ্দেশে সচেতনতামূলক নির্দেশনা প্রদান করা হয়। বিজিবি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সীমান্ত এলাকায় কোনো ধরনের সন্দেহজনক ব্যক্তি বা কর্মকাণ্ড চোখে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করতে হবে। সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাই সবচেয়ে বড় শক্তি বলে সভায় উল্লেখ করা হয়।
