কুয়েতে নিয়ে নারীকে অনৈতিক কাজে বাধ্য করানোর অভিযোগে মামলা, বাদীকে হুমকি
ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৬:৪৭ পিএম
জুয়েল
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
টাঙ্গাইলে ঘাটাইলের এক নারীকে কুয়েতে নিয়ে অনৈতিক কাজে বাধ্য করানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মামলা করেন ওই নারী। মামলার পর বাদী ওই নারীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শাওন নামে ঘাটাইলের এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে।
তিনি টাঙ্গাইল পৌরসভায় কর্মরত এডিসি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তার প্রভাব খাটিয়ে এ হুমকি দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘাটাইল উপজেলার চৈথট্র গ্রামের স্বামী পরিত্যক্তা এক নারী ঢাকার উত্তরায় এক প্রাইভেট হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। ৬ মাস আগে জুয়েল নামে মানবপাচারকারী দলের সক্রিয় সদস্য ওই নারীকে রেস্টুরেন্টে উচ্চ বেতনে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সাড়ে ৬ লাখ টাকার বিনিময়ে কুয়েতে নেন। সেখানে জুয়েল নামে মানবপাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি তার রুমে আটকে রেখে লাগাতার ধর্ষণ করেন ও দেহ ব্যবসায় বাধ্য করেন।
একপর্যায়ে কুয়েতে এক নেপালির কাছে বিক্রি করে জুয়েল দেশে ফিরে আসেন। পরে ভুক্তভোগী ওই নারী পালিয়ে দেশে এসে জুয়েল (৪৬), তার স্ত্রী মেরী আক্তার (৩৯) ও শামীমের বিরুদ্ধে ঘাটাইল থানায় একটি মামলা করেন। থানা পুলিশ মামলায় অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠায়।
ভুক্তভোগী ওই নারী জানান, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে গত ২২ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে রিমান্ড শুনানি বাতিল করে। অপরপক্ষে একজন আসামিকে জামিনে মুক্ত করে।
এদিকে ঘাটাইলে বাড়ি এডিসি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা আসামিদের পক্ষে কলকাঠি নাড়ছেন- এমন অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিকার চেয়ে লিখিত আবেদন করেছেন বাদী। এ ঘটনায় বাদী তার ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন।
এদিকে আসামিরা কুয়েত প্রবাসী হওয়ায় তাদের রিটার্ন টিকিট কাটা আছে। জামিন পেলে যেকোনো সময় দেশত্যাগ করতে পারেন।
ঘাটাইল থানার ওসি মোকছেদুর রহমান বলেন, দেখি এ বিষয়ে কিছু করতে পারি কিনা।
জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোপালপুর সার্কেল ফৌজিয়া হাবিব খান যুগান্তরকে বলেন, মামলার তদন্তের স্বার্থে যা যা করা দরকার সবই করা হচ্ছে।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, আসামির জামিনের বিষয়টি আদালতের ব্যাপার। এ বিষয়ে আমাদের কোনো এখতিয়ার নাই।
ইমিগ্রেশনে সতর্কতা জারি করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে ফৌজিয়া হাবিব খান বলেন, বিষয়টি তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
