গাঁজাসেবীদের ছাড়াতে থানায় গিয়ে মাতলামি, শ্রমিক দল নেতা বহিষ্কার
খুলনা ব্যুরো
প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১০:১১ পিএম
সোনাডাঙ্গা থানা
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দুই গাঁজাসেবীকে ছাড়িয়ে নিতে খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা থানায় গিয়ে মাতলামি ও পুলিশের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে আটক হয়েছেন নগরীর ১৮ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা শেখ দুলাল।
পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারে তাকে এক হাজার টাকা জরিমানা ও পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দিয়েছেন আদালত।
একই ঘটনায় তার এক সহযোগী এবং আটক দুই গাঁজাসেবীকেও জরিমানা ও প্রবেশন দেওয়া হয়েছে। ঘটনার জেরে মোস্তফা শেখ দুলালকে দল থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সোনাডাঙ্গা থানায় এ ঘটনা ঘটে। রোববার দুপুরে চারজনকে খুলনা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হলে বিচারক মো. আসাদুজ্জামান তাদের প্রত্যেককে এক হাজার টাকা জরিমানা করেন।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী, গাঁজাসেবনের অভিযোগে আটক পারভেজ শেখ ও আবদুল্লাহকে তিন মাস এবং মোস্তফা শেখ দুলাল ও তার সহযোগী শরিফুলকে ছয় মাস পরিবারের জিম্মায় প্রবেশন দেওয়া হয়েছে। প্রবেশন চলাকালে একই ধরনের অপরাধে জড়ালে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কারাদণ্ড কার্যকর হবে।
এদিকে ঘটনার পর রোববার খুলনা মহানগর শ্রমিক দলের পক্ষ থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে মোস্তফা শেখ দুলালকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মহানগর শ্রমিক দলের আহ্বায়ক মজিবর রহমান ও সদস্য সচিব শফিকুল ইসলাম শফি সিদ্ধান্তটি অনুমোদন করেন।
খুলনা মহানগর পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (সোনাডাঙ্গা জোন) মো. হুমায়ুন কবির জানান, শনিবার সন্ধ্যায় নগরীর দারুস সালাম মহল্লা থেকে গাঁজা সেবনের সময় দুই যুবককে আটক করা হয়। তাদের ছাড়িয়ে নিতে থানায় এসে মোস্তফা শেখ দুলাল প্রায় এক ঘণ্টা ধরে মাতলামি করেন এবং পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করলে তাকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তার পাকস্থলী পরিষ্কার করার পর থানায় এনে আটক রাখা হয়। পরদিন সকালে সামারি ট্রায়ালের জন্য আদালতে পাঠানো হয়।
সোনাডাঙ্গা থানার এসআই নাদিম মাহমুদ বলেন, আদালতে অভিযোগ উপস্থাপনের পর বিচারক চারজনকেই জরিমানা ও প্রবেশনের আদেশ দেন। পাশাপাশি প্রবেশন চলাকালে একই অপরাধে জড়ালে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী কারাদণ্ড কার্যকর হবে।
