নওগাঁয় মাদকাসক্ত ছেলের ইটের আঘাতে প্রাণ গেল বাবার
নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৪ পিএম
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নওগাঁয় মাদকাসক্ত ছেলের মারধরে মহাতাব সরকার (৬২) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) ভোরে নওগাঁ শহরের বনানীপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর অভিযুক্ত ছেলে সুমন পলাতক রয়েছে। নিহত মহাতাব সরকার পেশায় একজন রিকশাচালক ছিলেন।
নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সুমন কয়েক বছর আগে মাদকে আসক্ত হয়ে পড়েন। এ নিয়ে পরিবারে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ ও অশান্তি লেগে থাকত। এক বছর আগে স্বামীর মাদকাসক্তি ও নির্যাতনের কারণে তার স্ত্রী সুমা ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি নিয়েছেন। কয়েক দিন আগে তিনি বাড়িতে ফিরে আসেন। এরপর আবারও পারিবারিক কলহ শুরু হয়।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, রোববার (৫ জুলাই) রাত ১২টার দিকে সুমন রাগ করে তার বাবার সঙ্গে গিয়ে শুয়ে পড়েন। ঘুম না আসায় বাবা মহাতাব সরকার দোয়া পড়ে ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছিলেন। এতে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন সুমন। একপর্যায়ে তিনি বাবাকে ঘর থেকে টেনে বাইরে নিয়ে গিয়ে কাঠের বাটাম দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। পরে একটি ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করলে মহাতাব সরকার মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে পরিবারের দাবি। পরে পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে এলে সুমন পালিয়ে যান।
সোমবার ভোরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
সুমনের স্ত্রী সুমা বলেন, স্বামীর মাদকাসক্তির বিষয়টি আগে থেকেই জানতাম। এ নিয়ে তিনি প্রায়ই আমাকে মারধর করতেন। আমাদের দুই বছরের একটি ছেলে রয়েছে। সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে সংসার করছিলাম। কয়েক দিন আগে দাদি মারা যাওয়ায় বাবার বাড়িতে গিয়েছিলাম। পরে তিনি জোর করে আমাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। গত রাতে স্বাভাবিকভাবেই বাবার পাশে শুয়েছিলেন। ভোররাতে বাবাকে মারধর করে হত্যা করেন।
নিহতের স্ত্রী রেবেকা বলেন, ছেলে মাদকাসক্ত হওয়ার পর থেকে পরিবারের সদস্যদের প্রায়ই মারধর করত। এ নিয়ে সংসারে সব সময় অশান্তি ছিল। রোববার ছেলের বিষয়ে অভিযোগ করতে কালিতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে গিয়েছিলাম। এতে সে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। রাতে আমার স্বামীকে ঘর থেকে বের করে বাটাম ও ইট দিয়ে আঘাত করে।
নওগাঁ সদর থানার ওসি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, ঘটনার পর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযুক্ত সুমন পলাতক রয়েছে। তাকে আটকে অভিযান চলছে।
