Logo
Logo
×
   

Advertisement

সারাদেশ

কলাগাছের বাকলে স্বপ্ন বুনছেন সোহেল

Advertisement

Icon

চরফ্যাশন প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৪:১২ পিএম

কলাগাছের বাকলে স্বপ্ন বুনছেন সোহেল

কলাগাছের এই সুতা দিয়ে ব্যাগ, দড়ি, ম্যাট, হস্তশিল্পসহ পরিবেশবান্ধব নানা পণ্য তৈরি করা যায়।

Advertisement

দেশের বন্যাকবলিত অঞ্চলে একসময় যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম ছিল কলাগাছের ভেলা। সেই পরিত্যক্ত কলাগাছের বাকল বা খোল ব্যবহার করে হস্তশিল্পে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছেন কৃষি উদ্যোক্তা সোহেল।

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার চরমানিকা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে সোহেল (২৮)। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই শুধু ইউটিউবের ভিডিও দেখে নিজের আগ্রহ, অধ্যবসায় ও নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি কলাগাছের বাকল থেকে সুতা তৈরির প্রযুক্তি আয়ত্ত করেন। দীর্ঘদিনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তিনি সফলভাবে সুতা উৎপাদন শুরু করেছেন। তার এই উদ্যোগ ইতোমধ্যেই এলাকাবাসীর দৃষ্টি কেড়েছে এবং সম্ভাবনাময় একটি কুটিরশিল্প হিসেবে আলোচনায় এসেছে।

সোমবার (৬ জুলাই) সকালে সোহেলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির প্রবেশমুখে একটি সুতা তৈরির মেশিন স্থাপন করেছেন তিনি। সেখানে প্রতিদিন কলাগাছের বাকল সংগ্রহ করে প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে সুতা উৎপাদন করছেন। তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ দেখতে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকার মানুষ ভিড় করছেন।

সোহেল জানান, সাধারণত কলা সংগ্রহের পর গাছ কেটে ফেলে দেওয়া হয়। অথচ সেই পরিত্যক্ত কলাগাছের বাকলই এখন মূল্যবান কাঁচামালে পরিণত হয়েছে। প্রায় ৬০ কেজি কলাগাছ থেকে এক কেজি সুতা উৎপাদন করা সম্ভব। উৎপাদিত সুতা মানভেদে প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়। এই সুতা দিয়ে ব্যাগ, দড়ি, ম্যাট, হস্তশিল্পসহ পরিবেশবান্ধব নানা পণ্য তৈরি করা যায়।

তিনি আরও জানান, সুতা সংগ্রহের পর যে বর্জ্য অবশিষ্ট থাকে, তা ফেলে দেওয়া হয় না। সেই বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে জৈব সার তৈরি করা হয়। এছাড়া কলাগাছের বাকল থেকে কাগজ, মশার কয়েল, মাছের খাবার এবং কলাগাছের রস থেকে বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহৃত উপাদান উৎপাদনেরও সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে কলাগাছের প্রায় প্রতিটি অংশই কাজে লাগানো সম্ভব।

সোহেলের দাবি, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং সহজ শর্তে ঋণসুবিধা পেলে এ উদ্যোগকে শিল্পে রূপ দেওয়া সম্ভব। এতে একদিকে যেমন বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে কৃষকরাও পরিত্যক্ত কলাগাছ বিক্রি করে অতিরিক্ত আয় করতে পারবেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হোসেনসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, চরফ্যাশনসহ উপকূলীয় অঞ্চলে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ কলাগাছ নষ্ট হয়ে যায়। এসব গাছের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে কৃষকের অতিরিক্ত আয়ের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব কুটিরশিল্পেরও বিকাশ ঘটবে। সোহেলের এই উদ্যোগ প্রমাণ করেছে, সঠিক পরিকল্পনা ও উদ্ভাবনী চিন্তা থাকলে কৃষি বর্জ্যও হতে পারে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির নতুন হাতিয়ার।

চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, কলাগাছের বাকল থেকে সুতা তৈরির এই উদ্ভাবনী উদ্যোগ নতুন শিল্পের সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। এ ধরনের উদ্যোগ তরুণ উদ্যোক্তাদের অনুপ্রাণিত করবে। সরকারি সহযোগিতার সুযোগ থাকলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম