টানা ৩ দিনের বৃষ্টিতে কর্ণফুলীর উপকূলীয় এলাকায় জলাবদ্ধতা
কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম
টানা ৩ দিনের বৃষ্টিতে কর্ণফুলীর উপকূলীয় এলাকায় জলাবদ্ধতা
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
টানা তিন দিনের মুষলধারে বৃষ্টি এবং কর্ণফুলী নদীতে জোয়ারের প্রভাবে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিকলবাহা, চরপাথর ঘাটা, জুলধা তিন উপকূলীয় এলাকার মানুষ।
এছাড়া চরলক্ষ্যা ও বড়উঠান ইউনিয়নের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল। সড়ক, বসতবাড়ি ও কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারও মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, খাল-নালার নাব্যতা হ্রাস এবং দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে অল্প সময়ের ভারি বৃষ্টিতেই পানি জমে যায়। ফলে নিচু এলাকায় মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অনেক পরিবার ঘরবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে এবং বৃষ্টির পানি ঘরে ঢুকে নিত্যদিনের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে স্থানীয় বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ক্ষুদ্র ব্যবসা-বাণিজ্যেও বিরূপ প্রভাব পড়েছে।
বৈরী আবহাওয়ার কারণে জেলেরা নদীতে মাছ ধরতে যেতে পারছেন না। এতে তাদের আয়-রোজগারও কমে গেছে।
অন্যদিকে পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষিজমির ফসলেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ মুছা বলেন, বর্ষাকালে বৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক হলেও প্রতি বছর এ সময় এলাকার ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যায়। বিশেষ করে চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড, জুলধা ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড এবং শিকলবাহা ও বড়উঠান ইউনিয়নের নদীতীরবর্তী এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। কৃষিজমির ফসল পানিতে ডুবে নষ্ট হয়েছে, এমনকি অনেক পুকুরের মাছও প্রবল স্রোতে ভেসে গেছে। আবহাওয়া অনুকূলে না এলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। তিনি দ্রুত স্থায়ী সমাধানে উপজেলা প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেন।
চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ বলেন, টানা বৃষ্টিতে আমাদের ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র এখনই বলা সম্ভব নয়। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী পরিষদের সদস্যরা প্রস্তুত রয়েছেন। ইউনিয়নবাসীর যেকোনো সমস্যা বা জরুরি সহযোগিতার প্রয়োজন হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রিদুয়ানুল ইসলাম বলেন, কর্ণফুলী উপজেলা উপকূলীয় অঞ্চল হওয়ায় ভারি বৃষ্টি ও জোয়ারের সময় অনেক এলাকা সহজেই প্লাবিত হয়। এছাড়া অপরিকল্পিতভাবে ঘরবাড়ি নির্মাণ, পয়ঃনিষ্কাশন ও পানি চলাচলের যথাযথ ব্যবস্থা না থাকাও জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ। পানি নেমে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
