Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

রাঙামাটিতে পাহাড় ধসে সড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত

Icon

রাঙামাটি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ১০:৪১ পিএম

রাঙামাটিতে পাহাড় ধসে সড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত

কাপ্তাইয়ের ওয়াগ্গা ইউনিয়নের চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের বালুচরা পাহাড় ধসে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ছবি: যুগান্তর

রাঙামাটিতে অতিবৃষ্টিতে বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসের খবর পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার সকালে জমিতে কাজ করার সময় পাহাড় থেকে গাছ উপড়ে পড়ে লক্ষী বিলাস চাকমা (৭০) নামে একজন মারা গেছেন। এছাড়া বড় কোনো দুর্যোগ না ঘটলেও সদরসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে ভূমি ধসের খবর পাওয়া গেছে। 

সড়কে পাহাড় ধসের মাটি ও গাছ উপড়ে পড়ে সাময়িকভাবে যানবাহন চলাচলে ব্যাহত হয়। ২০১৭ সালের ১৩ জুন পাহাড় ধসে ১২০ জনের প্রাণহানি ঘটে। এ ধরনের সম্ভাব্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের  আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে লোকজনকে নিরাপদে সরে যেতে সতর্কবার্তা প্রচার করছে জেলা প্রশাসন। সোমবার সকাল থেকে শহরে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় গিয়ে মাইকিং করে এ সতর্কবার্তা প্রচার করা হচ্ছে। 

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, রাঙামাটি শহরের শিমুলতলী, রুপনগর, ভেদভেদী যুব উন্নয়ন এলাকাসহ বেশ কয়েকটি স্থানে পাহাড়ধসের ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। এসব এলাকায় বসবাসকারী লোকজনকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে বা সরকারি আশ্রয় কেন্দ্রে গিয়ে অবস্থান নেওয়ার জন্য এলাকায় গিয়ে মাইকিং করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হচ্ছে। 

প্রশাসন জানায়, সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় রাঙামাটি পৌর এলাকার ৯টি ওয়ার্ডে ১১টিসহ জেলায় ৪১টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পৌর এলাকায় ২৮টি স্থানকে পাহাড় ধসপ্রবণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসাবে শনাক্ত করা হয়েছে। পাহাড় ধসের আশঙ্কার মধ্যেও জেলার বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করছে প্রায় অর্ধলাখ মানুষ। পৌর শহরের শিমুলতলী, রূপনগর, নতুনপাড়া, যুব উন্নয়ন এলাকা, রিজার্ভবাজার, ভেদভেদী, লোকনাথ মন্দির এলাকা ছাড়াও বেশ কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে অসংখ্য পরিবার বসবাস করছে।

জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী জানান, প্রশাসনের পক্ষে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে গিয়ে আশ্রয় নেওয়ার জন্য বলা হচ্ছে। এজন্য প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলতে সতর্ক করা হচ্ছে। জেলা সদরসহ প্রতিটি উপজেলায় পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র খোলা রাখা হয়েছে। ঝুকিপুর্ণ এলাকা পাহাড়ের ঢাল ও পাদদেশে অবস্থান না করে আশ্রয় কেন্দ্রে গিয়ে অবস্থানের জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার লেঅকজনকে অনুরোধ করা হচ্ছে। 

এদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে রাঙামাটি সরকারি কলেজের ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষার মঙ্গলবারের নির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। স্থগিত পরীক্ষার পরবর্তী সময়সূচি কলেজের নোটিশ বোর্ড ও ওয়েবসাইটে জানানো হবে বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে। 

রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের সাপছড়ি, কলাবাগানসহ বিভিন্ন স্থানে ভূমিধসে সড়কে ওপর মাটি ও গাছের ডালপালা উপড়ে পড়ার খবর পাওয়া যায়। কাপ্তাইয়ে অতিবর্ষণে সড়কে গাছ উপড়ে এবং পাহাড় ধসের মাটি পড়ে সাময়িকভাবে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। 

বিষয়টি নিশ্চিত করে কাপ্তাই থানার ওসি শেখ মাহমুদুল হাসান রুবেল বলেন, সোমবার রাত থেকে টানা বৃষ্টির কারণে সড়কে গাছ এবং পাহাড়ের মাটি ধসে পড়ে। ফলে সড়কটির উভয় দিক হতে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। 

কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রায়হানুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এদিকে কাপ্তাই ফায়ার সার্ভিস, বন বিভাগ, পিডিবি এবং স্থানীয়রা সড়ক হতে গাছ এবং মাটি অপসারণ করে বিকালের দিকে যানবাহন চলাচলে উপযোগী করে বলে জানা গেছে। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রায়হানুল ইসলাম জানান, জেলা প্রশাসকের নির্দেশক্রমে কাপ্তাই উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে ১৮টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থানকালে আশ্রিত লোকজনকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে খাবার দেওয়া হবে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .