সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় চরফ্যাশনের আদালত চত্বর
চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় চরফ্যাশনের আদালত চত্বর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিচারিক সেবা নিতে চরফ্যাশন উপজেলার শত শত মানুষ প্রতিদিন আদালত প্রাঙ্গণে আসে; কিন্তু উপজেলার (অতিরিক্ত চৌকি) আদালত প্রাঙ্গণের সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা হয়ে পড়ে। ফলে সেবা নিতে আসা বিচারপ্রার্থী, আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আইনজীবীদের বেশ ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। হেঁটে যাওয়া কিংবা দাঁড়ানোর সুযোগ নেই আদালত প্রাঙ্গণে।
সেবা প্রার্থীদের দাবি দ্রুত সময় যেন আদালত প্রাঙ্গণ জলাবদ্ধতা নিরসনে পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
বুধবার (৮ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, আদালত প্রাঙ্গণে এ দুর্ভোগের চিত্র। কথা হয় সেবা নিতে আসা বেশ কয়েকজনের সঙ্গে। জানালেন ভোগান্তির কথা।
চরফ্যাশন উপজেলার চর কলমি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওযার্ডের দক্ষিণ চর মোঙ্গল গ্রামের থেকে মামলার কাজে আসা ইয়াসিন বলেন, মামলার কাজে এসে দেখি আদালতের সামনে প্রায় হাঁটু সমান পানি। বৃষ্টি হলেই এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। আদালতের সামনে এখন দাঁড়ানোর সুযোগ নেই।
চৌকি আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এডিশনাল পিপি) হযরত আলী হিরণ বলেন, অল্প বৃষ্টিতেই আদালতের সামনের সড়ক ও প্রবেশপথে পানি জমে চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফলে বিচারপ্রার্থীদের জমে থাকা পানি মাড়িয়ে আদালতে প্রবেশ করতে হচ্ছে। এছাড়া আদালতের আশপাশে বিভিন্ন বাড়িঘর ও বহুতল ভবন নির্মাণ হলেও নিষ্কাশন ব্যবস্থা না নেই। জলাবদ্ধতা হওয়ার এটিও একটি কারণ। আমরা জরুরিভিত্তিতে জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কিছু কাজ করেছি। এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভার কাছে কোনো প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাইনি। দ্রুত সময়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ করা জরুরি।
চরফ্যাশন চৌকি আদালত আইনজীবী সমিতির সভাপতি রমিজ উদ্দিন বলেন, এটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। আদালতে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষ আসেন। তাদের দুর্ভোগ লাঘবে স্থায়ীভাবে ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ এখন সময়রে দাবি। উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভার সহযোগিতায় দ্রুত এ সমস্যার সমাধান চাই।
স্থানীয়দের মতে, আদালতের মতো গুরুত্বপূর্ণ জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের সামনে দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা বিরাজ করা অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ না করলে বর্ষা মৌসুমে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে।
চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ বলেন, জলাবদ্ধতার বিষয়টি আমাদের নজরে আছে। ইতোমধ্যে ৪৬ লাখ টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। ড্রেনেজ নির্মাণ কাজ কিছু দিনের মধ্যে শুরু হবে।
