Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে দুই শিশুর মৃত্যু, জলাবদ্ধতায় স্থবির নগরজীবন

Icon

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৭ পিএম

চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে দুই শিশুর মৃত্যু, জলাবদ্ধতায় স্থবির নগরজীবন

চট্টগ্রামে চতুর্থ দিনের মতো বুধবারও ভারিবর্ষণ অব্যাহত ছিল। অতিবর্ষণে নগরীর আরও নতুন নতুন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

বৃষ্টির সঙ্গে যোগ হয়েছে পাহাড়ি ঢল ও কর্ণফুলী নদীর জোয়ারের পানি। বেলা বাড়তেই পানিও বাড়তে থাকে। এতে জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। বিপর্যস্ত অবস্থার মধ্যে দিনটি অতিবাহিত করে নগরবাসী।

সড়ক, মহাসড়ক অলি-গলি আবাসিক এলাকায় বুধবারও হাঁটু থেকে গলা সমান পানি ছিল। স্কুল-কলেজ বন্ধ করে দেওয়া হলেও সরকারি-বেসরকারি অফিস আদালত খোলা ছিল। সড়কে বের হয়ে কর্মজীবী মানুষদের ভয়াবহ দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হয়েছে।

এদিকে টানা বর্ষণে পাহাড় ধসের পৃথক ঘটনায় মাটিচাপা পড়ে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নগরীর পাচঁলাইশ থানার চশমা হিলে এলাকায় মাটি চাপা পড়ে সুমাইয়া আক্তার নামে ১১ বছরের এক শিশু মারা গেছে। অন্যদিকে সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে পাহাড় ধসে মাটিচাপা পড়ে আশরাফুল ইসলাম তানভীর নামের ১০ মাসের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

অন্যদিকে পানি না কমা পর্যন্ত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। কক্সবাজারের ট্রেন যাত্রা বাতিল করে যাত্রীদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।

রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বুধবার সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনকে নিয়ে পানিতে তলিয়ে যাওয়া রেললাইন পরিদর্শন করেছেন।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ বশির আহমদ বলেন, বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ২৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টি আরও কয়েক দিন স্থায়ী হতে পারে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। তাই সহসা নগরবাসী বৃষ্টির এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাচ্ছে না।

সরেজমিন দেখা যায়, কাতালগঞ্জ, বাকলিয়া, ষোলশহর ২ নম্বর গেট, ওয়াসা মোড়, আগ্রাবাদ এক্সেস রোড, বাদামতলী, চান্দগাঁও, মোহরা, হালিশহর, পতেঙ্গা, চকবাজার ও বন্দর এলাকার নিম্নাঞ্চলে বিভিন্ন সড়কে পানি জমে যায়। অনেক স্থানে সড়ক ও ড্রেন একাকার হয়ে যাওয়ায় যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করে। কিছু এলাকায় ছোট যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কোথাও কোথাও পানিতে আটকা পড়ে মালবাহী ট্রাক। টানা বৃষ্টির কারণে অনেক বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও পানি ঢুকে পড়ে। জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন এলাকায় খাল, নালা ও ড্রেন পরিষ্কার এবং পানি নিষ্কাশনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কর্মকর্তারাও মাঠে রয়েছেন।

মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় আগামী কয়েক দিন ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি বজায় থাকবে। টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ঘেঁষা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। পাশাপাশি প্রয়োজন হলে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বেশ কয়েকটি স্কুলে আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হলেও সেখানে মানুষ তেমন যাচ্ছে না।

ভারি বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম নগরীর শুলকবহর ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চশমা হিল এলাকায় পাহাড়ধসে সুমাইয়া আক্তার নামে ১১ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সুমাইয়ার লাশ উদ্ধার করে। হতভাগ্য শিশুটি ওই এলাকার বাসিন্দা ফারুক হোসেনের মেয়ে।

চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স জোন-৪ এর উপসহকারী পরিচালক শাহ ইমরান বলেন, দুপুর ১২টা ৪৮ মিনিটে পাহাড়ধসের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দুর্ঘটনার সময় ঘরে থাকা সুমাইয়ার মা-বাবা বের হয়ে যেতে সক্ষম হন। তবে পাশের কক্ষে থাকা সুমাইয়া বের হতে পারেনি। ফলে ঘটনাস্থলেই সুমাইয়া মারা যায়।

একইভাবে সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে ঘরের ওপর মাটিচাপায় মো. আশরাফুল ইসলাম তানভীর নামে ১০ মাসের এক শিশুর মৃত্যু  হয়েছে। তানভীর ওই এলাকার বাগান বাড়ির বাসিন্দা মহিন উদ্দীনের ছেলে। বুধবার সকাল ১০টার দিকে জঙ্গল সলিমপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ৬ নম্বর সমাজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ের কিনারে থাকা ঘরের উপর মাটি ধসে পড়ে। এ সময় শিশুটি গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে উদ্ধার করা হলেও তার মৃত্যু হয়।

পানি না কমা পর্যন্ত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে:

পানি না কমা পর্যন্ত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া ডুবে থাকা চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেললাইন পাঁচ ফুট উঁচু করা হবে বলে জানিয়েছেন রেল প্রতিমন্ত্রী  হাবিবুর রশিদ। বুধবার সকালে নগরীর ষোলশহর এলাকায় জলাবদ্ধতায় তলিয়ে যাওয়া রেললাইন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

এ সময় তিনি কোমর পানিতে নেমে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন।

রেলওয়ে জানিয়েছে, যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। তবে রেললাইনের কোনো কাঠামোগত ক্ষতি হয়নি। বন্যার পানি নেমে গেলে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় ট্রেন চলাচল শুরু হবে।

রেল প্রতিমন্ত্রী  হাবিবুর রশিদ বলেন, চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী পর্যন্ত ৪৭ কিলোমিটার রেললাইন পাঁচ ফুট উঁচু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বর্তমানে দরপত্র প্রক্রিয়ায় রয়েছে। কাজ বাস্তবায়িত হলে অতিবৃষ্টির সময় রেললাইন পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা কমবে এবং ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে। যাত্রীদের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাচ্ছে। তাই পানি না নামা পর্যন্ত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে। আগাম টিকিট কাটা যাত্রীরা প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ভাড়া ফেরত পাবেন বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম