Logo
Logo
×
   

Advertisement

সারাদেশ

টানা বর্ষণে চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা, খেটেখাওয়া মানুষের কষ্ট বাড়ছে

Advertisement

Icon

এমএ কাউসার, চট্টগ্রাম

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৮ পিএম

টানা বর্ষণে চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা, খেটেখাওয়া মানুষের কষ্ট বাড়ছে

টানা বর্ষণে চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা, খেটেখাওয়া মানুষের কষ্ট বাড়ছে

Advertisement

চট্টগ্রামে টানা চার দিনের ভারিবর্ষণ ও জলাবদ্ধতার কারণে খেটেখাওয়া শ্রমজীবী মানুষ বিপাকে পড়েছেন। বিশেষ করে ফুটপাতের হকার, নির্মাণ কাজের ঠিকা শ্রমিক, গাড়িচালক, রিকশাওয়ালা থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র আয় ও দিনে এনে দিনে খাওয়া মানুষের কষ্টের যেন শেষ নেই। পরিবার-পরিজন নিয়ে অর্থকষ্টে দিনাতিপাত করছেন তারা।

বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতা স্থায়ী হলে তাদের কষ্ট আরও দীর্ঘায়িত হবে। বস্তি এলাকার মানুষজনও বাসা-বাড়িতে পানি ঢোকার কারণে খাবারের কষ্টে পড়েছে।

নগরীর বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়ে এবং ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে এই চিত্র পাওয়া গেছে।

গত চার দিনে চট্টগ্রামে ৮০৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। নগরীর নিম্নাঞ্চল ছাড়াও অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টির পানি থৈ থৈ করছে। পানি ঢুকে পড়েছে বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। এতে করে বাসাবাড়ির আসবাবপত্র ও দোকানের পণ্য নষ্ট হয়ে গেছে।

চকবাজার এলাকার বাসিন্দা গৃহবধূ সুমাইয়া আক্তার বলেন, ঘরের নিচতলায় কোমর সমান পানি উঠেছে। রান্নাঘরেও পানি ঢুকে গেছে। বৃষ্টির পানি আর ড্রেনের পানি একাকার হয়ে গেছে। ঘরের ভেতর দুর্গন্ধে থাকা যাচ্ছে না। চুলা জ্বালাতে পারছি না। পানিও নামছে না। পরিবারের সবাই শুকনো খাবার দিন পার করছি।

নগরীর প্রবর্তক মোড়ে রিকশা চালক মো. আরমান বলেন, পানির কারণে রাস্তার কোথায় গর্ত আছে জানি না। এরপরও ঝুঁকি নিয়ে রিকশা নিয়ে বের হয়েছি। আমরা দিনে এনে দিনে খাওয়া মানুষ। সঞ্চয়ের সুযোগ নেই। তিন দিন ধরে বলতে গেলে আয়-রোজগার নেই। রিকশা নিয়ে বের হলেও ভাড়াও মারতে পারছি না। এ অবস্থায় পরিবারের ৫ সদস্যের মুখে আহার তুলে দেওয়ার চিন্তাই প্রতিটি ঘণ্টা পার করছি।

পরিবহণ ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, আমার পাঁচটি ট্রাক গত দুই দিন ধরে বসা অবস্থায় রয়েছে। কোনো ভাড়া নেই।। সবকিছু স্থবির হয়ে গেছে। চালক এবং হেলপাররা অর্থকষ্টে পড়ে গেছেন।

জলাবদ্ধতার কারণে দেশের বৃহত্তম পাইকারি বাজার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে ঢুকতে পারছে না পণ্যবাহী ট্রাক। তাই লোড-আনলোড বন্ধ। এখানকার কুলি-মজুর যারা লোড-আনলোডের কাজ করেন তারাও অর্থকষ্টে পড়ে গেছেন বলে জানান এই এলাকার ব্যবসায়ীরা।

বৃহত্তর বাকলিয়া এলাকায় নিম্নআয়ের এবং খেটেখাওয়া মানুষের সংখ্যা বেশি। বাকলিয়ার তক্তারপুল এলাকার বাসিন্দা গৃহকর্মী জ্যোৎস্না বেগম বলেন, তার স্বামী রিকশা চালান। তিনি মানুষের বাসায় কাজ করেন। তাদের কলোনির বেশিরভাগ বাসায় পানি ঢুকেছে। তারা কেউ কাজে যেতে পারছে না। আবার বসে বসে যে খাবে সেই সঞ্চয়ও তাদের হাতে নেই। এ অবস্থায় বৃষ্টি না থামলে, জলাবদ্ধতা দীর্ঘায়িত হলে কষ্টের শেষ থাকবে না।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে কোথাও কোথাও কোথাও শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা হলেও বাকলিয়া এলাকার কেউ করপোরেশন কিংবা সরকারের তরফ থেকে সেই ধরনের কোনো সাহায্য-সহযোগিতা পাননি।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন যুগান্তরকে বলেন, চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পে হাজার-হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এরপরও সাধারণ মানুষ জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাচ্ছে না। টানা চার দিনের বর্ষণ ও দুই দিনের জলাবদ্ধতায় গরিব ও নিম্নআয়ের মানুষ বেশি কষ্টে পড়েছে। তাদের সাহায্যে জেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন তথা সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের এগিয়ে আসা উচিত।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম