Logo
Logo
×
   

Advertisement

সারাদেশ

বন্যায় কক্সবাজারের ৩ উপজেলা প্লাবিত, পানিবন্দি লক্ষাধিক মানুষ

Advertisement

Icon

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০২:১৭ পিএম

বন্যায় কক্সবাজারের ৩ উপজেলা প্লাবিত, পানিবন্দি লক্ষাধিক মানুষ

পানিবন্দি লক্ষাধিক মানুষ

Advertisement

টানা কয়েক দিনের ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের চকরিয়া, মাতামুহুরী ও পেকুয়া উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এতে পানিবন্দি হয়েছেন তিন উপজেলার লাখের অধিক মানুষ।

মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে। এতে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গ্রামীণ সড়ক ও ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিন উপজেলায় লাখের অধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন এবং সড়কে পানি উঠায় যান চলাচলও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

চকরিয়া উপজেলার হারবাং, বরইতলী, কৈয়ারবিল, লক্ষ্যারচর, কাকারা, সুরাজপুর-মানিকপুর, ফাঁসিয়াখালী, ডুলাহাজারা, খুটাখালী এবং চকরিয়া পৌরসভার নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের মছনিয়াকাটা এলাকায় পাহাড়ধসে দুই ভাই-বোনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন- স্থানীয় মোহাম্মদ কাজলের মেয়ে সুমি (১৭) এবং কাজলের ভাই আবদুল মজিদের ছেলে মোহাম্মদ তাওসিফ (১১)।

স্থানীয়রা জানান, ভারি বর্ষণ অব্যাহত থাকায় এবং মাতামুহুরী নদীর পানি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে এবং উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার বিএমচর, কোনাখালী, পূর্ব বড় ভেওলা, পশ্চিম বড় ভেওলা, বদরখালী, ঢেমুশিয়া ও সাহারবিল ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার সকালে কোনাখালী ইউনিয়নের পুরুইত্যাখালী এলাকায় মাতামুহুরী নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে বানের পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এতে বসতঘর ও ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শহীদ দেলোয়ার বলেন, ভারি বর্ষণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে উপজেলা প্রশাসনের জরুরি কন্ট্রোল রুম চালু রয়েছে এবং সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে পেকুয়া উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বারবাকিয়া, রাজাখালী, মগনামা, শিলখালী ও উজানটিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকা।

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে অন্তত ২০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মধ্যে রয়েছে টইটং ইউনিয়নের হাজীবাজার ও সোনাইছড়ি, শিলখালীর হেদায়াতাবাদ, মাঝেরঘোনা, কাছারীমোড়া ও পেঠান মাতবরপাড়া, রাজাখালীর বামুলাপাড়া, মৌলভীপাড়া ও উলুডিয়াপাড়া, মগনামার শরৎঘোনা, পশ্চিম বাজারপাড়া, ধারিয়াখালী, ধরদরীঘোনা, মটকাভাঙা, চেরাংঘোনা, মরিচ্যাদিয়া, রঙ্গিয়াখালী, মগঘোনা, মাঝিরপাড়া ও মৌলভীপাড়া, উজানটিয়ার মিয়াপাড়া, সাবখালীপাড়া, ঘোষলপাড়া, পেকুয়ারচর ও পেরাসিংগাপাড়া, পেকুয়া সদর ইউনিয়নের মোরারপাড়া, সৈকতপাড়া, পূর্ব মেহেরনামা ও পশ্চিম গোয়াঁখালী এবং বারবাকিয়া ইউনিয়নের ভারুয়াখালী ও পাহাড়িয়াখালী।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অনেক পরিবারের ঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। অনেক পরিবার নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তরা দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা, ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বারবাকিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা খালেকুজ্জামান বলেন, টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের আশঙ্কা রয়েছে। তাই পাহাড়সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে নিয়মিত মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে।

পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো নিয়মিত পরিদর্শন করছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নিম্নাঞ্চল ও পাহাড়সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম