Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

সপ্তাহজুড়ে টানা বর্ষণ

রাঙামাটিতে শতাধিক পাহাড়ধস, পানিবন্দি ৩০ হাজার মানুষ

Icon

সুশীল প্রসাদ চাকমা, রাঙামাটি

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ১১:৫০ এএম

রাঙামাটিতে শতাধিক পাহাড়ধস, পানিবন্দি ৩০ হাজার মানুষ

ছবি: যুগান্তর

সপ্তাজুড়ে টানা ভারি বর্ষণে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটি জেলায় বন্যার পরিস্থিতি এখনো অপরিবর্তিত। প্লাবিত হয়েছে বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল। বাঘাইছড়ি, জুরাছড়ি ও বিলাইছড়ি উপজেলায় পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে। 

সর্বশেষ পাওয়া খবরে- জেলায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন ৩০ হাজার মানুষ। ডুবেছে বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্টসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা। বিস্তর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে রয়ে গেছে পাহাড়ধসের শঙ্কা। জেলার বিভিন্ন স্থানে শতাধিক পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। 

প্রশাসন ও স্থানীয়রা জানিয়েছে, পাহাড়ধস ও নিম্নাঞ্চল ডুবে যাওয়ায় জেলার গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সড়কে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। কাপ্তাই হ্রদে প্রবল পানি প্রবাহ থাকায় বিঘ্নিত হচ্ছে নৌযান চলাচলে। অব্যাহত দুর্যোগে বেড়ে চলেছে জনদুর্ভোগ। 

জেলা প্রশাসন জানায়, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যার কারণে জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলায় অন্তত ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বাঘাইছড়ি, জুরাছড়ি ও বিলাইছড়ি উপজেলার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। পাহাড়ধস ও বন্যার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে স্থানীয়দের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন যৌথভাবে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। টানা বর্ষণে রাঙামাটির অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ ব্যাপক ক্ষতিস্ত হয়েছে। পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যার কারণে এবং কাপ্তাই হ্রদের পানি দ্রুত বেড়ে যাওয়া কয়েক হাজার হেক্টর ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম, রাঙামাটি-মহালছড়ি-খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা-বাঘাইছড়ি এবং রাঙামাটি-কাপ্তাই-বান্দরবান আঞ্চলিক মহাসড়কসহ জেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। 

কাপ্তাই-চন্দ্রঘোনা-বাঙালহালিয়া সড়কে পাহাড়ধসে যানবাহন চলাচল বন্ধ হওয়ার ১১ ঘণ্টা পর স্বাভাবিক হয়েছে। বৃহস্পতিবার সড়কে পাহাড়ধসে পড়লে এদিন সকাল ৭টা থেকে কাজ শুরু করে সন্ধ্যায় এ রুটে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে বলে জানান রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা। 

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, এর মধ্যে বিলাইছড়িতে ৩৭টি, কাউখালীতে ৩০টি, কাপ্তাইয়ে ১৫টি, রাঙামাটি সদরে ১৩টি, বাঘাইছড়িতে ৩টি এবং নানিয়ারচরে ২টিসহ এ পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে শতাধিক পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাঘাইছড়ি উপজেলা। সেখানে অন্তত ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এতে প্রায় ৫ হাজার পরিবারের ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। দুর্গতদের জন্য ৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে এ পর্যন্ত ৩ হাজার ২৪৮ জন আশ্রয় নিয়েছেন। বর্তমানে জেলায় ৩০টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার মানুষ অবস্থান নিয়েছেন। আশ্রিত লোকজনদের দিনে তিন বেলা খাবারসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা করছে জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, রাঙামাটিতে ১৪৫টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় এবং ২৯টি অতিঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় প্রায় ৫ হাজার পরিবারের ২০ হাজার মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাস করছেন। তাই পাহাড়ধসের আশঙ্কা বিবেচনায় প্রশাসন সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় রাঙামাটিতে ১৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় হয়েছিল ২৮৭ মিলিমিটার। বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমলেও টানা বর্ষণের কারণে উজান থেকে পাহাড়ি ঢল অব্যাহতভাবে নামছে, ফলে পাহাড়ধস ও বন্যার ঝুঁকি এখনো পুরোপুরি কাটেনি।

জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত শারমিন জানিয়েছেন, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .