দারিদ্র্যের কাছে হার মানলেন বাবা-মা, দিলেন লিখিত অঙ্গীকার
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০২:০৩ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার শাহপুর এলাকায় জেলা পরিষদের সড়কের পাশ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া নবজাতক কন্যাশিশুর বাবা-মায়ের সন্ধান মিলেছে। চরম দারিদ্র্যের কারণে তারা শিশুটিকে নিজের কাছে নিতে রাজি হননি। বরং উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অঙ্গীকার করেছেন, ভবিষ্যতে তারা শিশুটির কোনো পরিচয় দেবেন না এবং তার ওপর কোনো দাবি-দাওয়া রাখবেন না।
সোমবার (৬ জুলাই) ভোরে উপজেলার উত্তর শাহপুর এলাকায় জেলা পরিষদের সড়কের পাশ থেকে কান্নার শব্দ শুনে স্থানীয়রা নবজাতকটিকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে শিশুটিকে একটি সেফ হোমে রাখা হয়। পরে শিশুটির দায়িত্ব নেওয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসনের কাছে একাধিক ব্যক্তি আবেদন করেন।
পরদিন উপজেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের সিদ্ধান্তে আপাতত মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের উত্তর শাহপুর গ্রামের সফর আলীর ছেলে, নিঃসন্তান জাবেদ আলীর জিম্মায় শিশুটিকে সেফ হোম হিসেবে রাখা হয়। উপজেলা প্রশাসন জানায়, এটি স্থায়ী হস্তান্তর নয়; আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এটি একটি সাময়িক ব্যবস্থা।
এদিকে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে শিশুটির বাবা বাসির ও মা শিরিনকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসানের কার্যালয়ে হাজির করা হয়। তারা জানান, তাদের সংসারে আগে থেকেই দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে, যার মধ্যে একটি প্রতিবন্ধী। সদ্য জন্ম নেওয়া নবজাতকটিও জন্মগতভাবে প্রতিবন্ধী। দীর্ঘদিন একটি মেটাডোর কোম্পানিতে স্বল্প বেতনে চাকরি করে কোনোমতে সংসার চালিয়ে আসছেন তারা। অভাব-অনটনের কারণে নবজাতকের চিকিৎসা ও লালন-পালনের দায়িত্ব নেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে বাসির বলেন, আমরা মেয়েটিকে মেরে ফেলতে চাইনি। ভেবেছিলাম, কোনো সহৃদয় মানুষ তাকে তুলে নেবে, তাহলে হয়তো তার ভবিষ্যৎ আমাদের চেয়ে ভালো হবে।
পরে বাসির ও শিরিন উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিতভাবে অঙ্গীকার করেন যে, তারা ভবিষ্যতে শিশুটির পরিচয় দাবি করবেন না এবং তার ওপর কোনো অধিকারও দাবি করবেন না।
ইউএনও মেহেদী হাসান জানান, বাবা-মায়ের লিখিত অঙ্গীকারের পর এখন প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী শিশুটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
