Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

নিজ কক্ষে স্বামী-স্ত্রীর লাশ, মৃত্যু নিয়ে রহস্য

Icon

মহাদেবপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৩ পিএম

নিজ কক্ষে স্বামী-স্ত্রীর লাশ, মৃত্যু নিয়ে রহস্য

মহাদেবপুর থানা

নওগাঁর মহাদেবপুরে নিজ শয়ন কক্ষ থেকে স্বামী-স্ত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার সকালে উপজেলার সফাপুর ইউনিয়নের পাহাড়পুর গ্রাম থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। তবে তাদের মৃত্যু নিয়ে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে।

মৃতরা হলেন- উপজেলার সফাপুর ইউনিয়নের পাহাড়পুর গ্রামের লোকমান মণ্ডল (৫২) ও তার স্ত্রী দেলোয়ারা বেগম (৪৬)।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্র জানায়, রোববার রাতে ছেলে মুক্তার হোসেনসহ তিনজন একসঙ্গে রাতের খাবার খেয়ে নিজ শয়ন কক্ষে ঘুমাতে যান স্বামী-স্ত্রী। ভোর রাত সাড়ে ৩টার দিকে তাদের ছেলে মুক্তার হোসেন প্রতিবেশীদের খবর দিলে তারা এসে খাটের উপর স্বামী-স্ত্রীর লাশ দেখতে পান।

মৃত লোকমান মণ্ডল দিনমজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ছেলে মুক্তার হোসেন পাহাড়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরির চাকরি করেন এবং বাবা-মায়ের সঙ্গে একই বাড়িতে বসবাস করেন।

স্থানীয়দের দাবি, ছেলে মুক্তার হোসেন মাদকদ্রব্য সেবনসহ অনলাইন জুয়ায় আসক্ত। এসব টাকার জন্য বাবা-মাকে চাপ দিলে তারা টাকা দিতে অস্বীকার করায় খাবারের সঙ্গে কীটনাশক মিশিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে।

প্রতিবেশীরা জানান, প্রায় সপ্তাহখানেক আগে একই কায়দায় খাবারের সঙ্গে কীটনাশক মিশিয়ে স্বামী-স্ত্রীকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। বিষয়টি বুঝতে পেরে খাবারগুলো ফেলে দিলে ওই খাবার খেয়ে বাড়ির কিছু হাঁস মারা যায়।

মুক্তার হোসেন জানান, রাত সাড়ে ৩টার দিকে টয়লেট সেরে যাওয়ার সময় বাবা-মায়ের ঘরের দরজা খোলা দেখে ভিতরে লাইট মেরে দেখি খাট থেকে বাবার পা ঝুলে আছে। ঘরের ভিতরে গিয়ে তাদের ডাক দিলে কোনো সাড়া না পেয়ে বিষয়টি প্রতিবেশীদের জানান।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মহাদেবপুর থানার এসআই মো. জেলকদ হোসেন জানান, প্রাথমিক সুরতহাল রিপোর্টে কীটনাশক পানে অথবা খাবারে কীটনাশক প্রয়োগে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মহাদেবপুর থানার ওসি মো. ওমর ফারুক বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, খাবারের মাধ্যমে বিষাক্ত কিছু শরীরে যাওয়ায় তাদের মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .