পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি ভাঙায় রফা, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
Advertisement
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ১১:০০ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজশাহীর পুঠিয়ায় বালুবাহী ট্রাকের ধাক্কায় পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি ভাঙার ঘটনায় ক্ষতিপূরণ আদায়ে ভাউচার ছাড়াই ৩২ হাজার টাকা লেনদেনের মাধ্যমে রফাদফা হয়েছে।
এ রফাদফার টাকা নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর পুঠিয়া জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) আহসানুল করিম এবং উপসহকারী প্রকৌশলী আসাদ আলী আত্মসাৎ করেছেন বলে উঠেছে অভিযোগ।
গত শনিবার (১১ জুলাই) ভোরে পুঠিয়া পৌরসভার পালোপাড়া গোরস্থানের পাশে ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, ভোরে গোরস্থানের পাশে কাটাখালি এলাকার ইউনুস আলীর একটি বালুবাহী ড্রাম ট্রাক ঘোরানোর সময় পল্লী বিদ্যুতের খুঁটিতে সজোরে ধাক্কা দেয়। এর ফলে পোলটি ভেঙে যায়। এ সময় পুরো এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বিদ্যুৎ না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হলে তারা বালুবাহী ট্রাকটি আটকে দেন।
এরপর বিদ্যুৎ অফিসে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পল্লী বিদ্যুতের টেকনিক্যাল টিমের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন উপসহকারী প্রকৌশলী আসাদ আলী। ক্ষতিপূরণ নিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ ও ট্রাক মালিকপক্ষের মধ্যে শুরু হয় প্রকাশ্যে দর-কষাকষি। নতুন পোল বসানো ও বিদ্যুৎ সংযোগ সচল করতে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ প্রথমে ৬৭ হাজার টাকা দাবি করে। ট্রাক মালিক এ পরিমাণ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে একপর্যায়ে তা কমে ৪৭ হাজার টাকায় দাঁড়ায়।
পরবর্তীতে ড্রাম ট্রাকের মালিক ইউনুস আলী উপসহকারী প্রকৌশলী আসাদকে প্রস্তাব দেন, তাদের ভাউচার বা রশিদ লাগবে না। এ প্রস্তাবের পর প্রকৌশলী আসাদ ডিজিএম আহসানুল করিমের সাথে ফোনে কথা বলেন। শেষপর্যন্ত কোনো ভাউচার বা রশিদ ছাড়াই মাত্র ৩২ হাজার টাকায় রফাদফা হয়। এরপর নতুন পোল বসিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ সচল করা হয়।
টাকার মাধ্যমে রফাদফার বিষয়ে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে ট্রাকের মালিক ইউনুস আলী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ট্রাকের ধাক্কায় পোল ভেঙে যাওয়ায় বিপদে পড়েছিলাম। সেই সময় পল্লী বিদ্যুতের লোকজন ৩২ হাজার টাকা নিয়ে আমার ট্রাকটি ছেড়ে দিয়েছে।
পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের ৬৭ হাজার টাকা দাবি করার পর মাত্র ৩২ হাজারে কিভাবে সমঝোতা হলো- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ডিজিএম স্যারের কাছে আমার এক বড় ভাই সুপারিশ করেছিলেন। সেই কারণে কোনো ভাউচার ছাড়াই তিনি ৩২ হাজার টাকায় কাজটি করে দিতে রাজি হন।
ভাউচার ছাড়া ক্ষতিপূরণ আদায় এবং আদায়কৃত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সম্পর্কে উপসহকারী প্রকৌশলী আসাদ আলী বলেন, রফাদফা বা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমরা জরুরিভাবে পোল স্থাপন করে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছি। শনিবার ছুটির দিন ছিল। দাপ্তরিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় আদায়কৃত অর্থের ভাউচার দেওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে শনিবারের পরে রোব ও সোমবার অফিস খোলা থাকলেও ভাউচার কেন দেওয়া হয়নি- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ট্রাক মালিক আসেননি। তিনি এলেই ক্ষতিপূরণের ৩২ হাজার টাকা আদায়ের ভাউচার দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য ডিজিএম আহসানুল করিমকে তিনবার ফোন দেওয়া। তিনি সাড়া দেননি।
তবে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ফখরুল আলম বলেন, বিষয়টি আমি জানি না। তবে আপনার (সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক) কাছেই প্রথম শুনলাম। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নেওয়ার পর তদন্ত করা হবে। সত্যতা পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
