সরকারি বাসাতে থেকেও ভাড়াসহ বিদ্যুৎ-গ্যাস বিল দিচ্ছেন না কর্মকর্তা
Advertisement
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ১১:০৪ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছেন না আরইউটিডিপি প্রকল্পের উপ-পরিচালক (সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী) আবুল কালাম আজাদ মোল্লা। নগরীর চণ্ডীপুরে অবস্থিত রাজশাহী স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) চত্বরের সরকারি বাসায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করলেও নিয়মানুযায়ী বাসা ভাড়া, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও ইন্টারনেট বিল পরিশোধ করেননি তিনি।
সরকারি চাকরি বিধির পরিপন্থি এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে বকেয়া সব বিল সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার জন্য তাকে সম্প্রতি চিঠি দিয়ে তাগিদ দিয়েছেন রাজশাহী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী।
চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ মোল্লা গত ২০২৫ সালের ৬ জানুয়ারি সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে রাজশাহীতে এলজিইডির একটি প্রকল্পে যোগদান করেন। তখন থেকেই তিনি রাজশাহী এলজিইডি চত্বরের একটি সরকারি বাসায় বসবাস শুরু করেন। তবে সরকারি বাসায় বসবাস করলেও তিনি সরকারি বিধি মোতাবেক কোনো বাসা ভাড়া পরিশোধ করেননি। এই ভাড়া তার বেতন থেকে কর্তন করার কথা; কিন্তু সেটাও করা হয়নি। শুধু বাসা ভাড়াই নয়, সরকারি বাসায় থেকে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও ইন্টারনেট সুবিধা ভোগ করলেও দীর্ঘদিন ধরে তিনি এ সংক্রান্ত কোনো বিলও পরিশোধ করেননি।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে- রাজশাহী এলজিইডি চত্বরের সরকারি বাসায় বসবাসের তারিখ থেকে অদ্যাবধি সমস্ত বকেয়া বিল অবিলম্বে সরকারি কোষাগারে জমা করে তা লিখিতভাবে নির্বাহী প্রকৌশলীকে অবহিত করতে হবে। বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে চিঠির অনুলিপি এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্টদেরকে পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ মোল্লা বলেন, আমি সব পাওনাদি পরিশোধের জন্য প্রস্তুত আছি। তবে ভাড়া দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি কোড হাতে না পাওয়ায় পরিশোধ করতে পারছি না।
তবে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম বলেন, এখানে কোড হাতে পাওয়ার কোনো বিষয় নেই। আবুল কালাম আজাদ মোল্লা ইচ্ছা করলেই তার সরকারি বেতন ভাতা থেকে বিধিমোতাবেক বাড়ি ভাড়াসহ সব পাওনাদি পরিশোধ করে দিতে পারবেন। তবে তিনি অজুহাত দেখিয়ে তা পরিশোধ করছেন না।
