Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

যশোরে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

Icon

যশোর ব্যুরো

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ১১:১১ পিএম

যশোরে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলায় রুবেল হোসেন (৩৮) নামে এক যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় বিচার চেয়ে বিক্ষোভ করেছেন দলীয় নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী।

সোমবার সন্ধ্যার দিকে উপজেলার খাজুরা বাজার তেলপাম্প এলাকায় যশোর-মাগুরা মহাসড়কে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি হয়।

প্রায় আধঘণ্টাব্যাপী চলা এ কর্মসূচিতে নিহত রুবেলের প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন এবং স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। পরে বিক্ষুদ্ধ জনতা তেলীধান্যপুড়ার বাসিন্দা রাব্বিকে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত দাবি করে তার বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্য আগুন ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এ সময় বিক্ষুদ্ধ জনতা ও নেতাকর্মীরা রুবেল হত্যার সঙ্গে জড়িতদের আটক ও শাস্তির দাবি জানান।

এর আগে সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার খাজুরা পুলিশ ক্যাম্পের সামনে রুবেল হোসেনকে কুপিয়ে হত্যা করে। পূর্বশত্রুতার জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

রুবেল বন্দবিলা ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পেশায় একটি কুরিয়ার সার্ভিসের কাভার্ডভ্যানের চালক ছিলেন। তিনি উপজেলার তেলীধান্যপুড়া গ্রামের মোনতাজ ঢালীর ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে রুবেল বাইরে থেকে কাভার্ডভ্যান চালিয়ে খাজুরায় আসেন। কাভার্ডভ্যানটি যশোর–মাগুরা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে খাজুরা তেলপাম্পে রেখে পাশের বাড়িতে যান। পরে সেখান থেকে হেঁটে তেলপাম্পের দিকে যাওয়ার সময় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে খাজুরা পুলিশ ক্যাম্পের সামনে পৌঁছান। এ সময় রুবেলের পথরোধ করেন তার বোনের দেবর একই গ্রামের রাব্বিসহ (২২) তিন–চারজন। তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ছুরি দিয়ে রুবেলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন রাব্বি।

পরে রাব্বি সেখান থেকে পালিয়ে যান। স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় রুবেলকে উদ্ধার করেন। পরে দুপুর ১২টার দিকে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। পরে বিকালে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ।

নিহত রুবেলের মা ফিরোজা বেগম আহাজারি করে বলেন, প্রায়ই স্থানীয় বখাটেদের নিয়ে রাব্বি তেলীধান্যপুড়া উলুমুল হাফেজিয়া কুরআন মাদ্রাসা মাঠে আড্ডা দিতেন। একদিন মাদ্রাসার হুজুর রাব্বিকে এখানে আড্ডা দিতে নিষেধ করেন। রাব্বি হুজুরের কথা নিষেধ না করে উল্টো হুজুরকে নানা আজেবাজে কথা বলে হুমকি দেয়। বিষয়টি জানতে পেরে রুবেল রাব্বিকে চড় মারেন। সেই থেকে রাব্বি রুবেলের প্রতি ক্ষোভ জন্মায় ও প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিতেন। সেই প্রতিশোধ হিসেবে রাব্বি ধারালো অস্ত্র দিয়ে রুবেল হোসেনের বুকে, পিঠে ও মুখে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

নিহত রুবেলের ভাই রাজিব হোসেন জানান, রুবেলকে মারতে রাব্বির সঙ্গে আরও দুই থেকে তিনটি মোটরসাইকেল এসেছিল। তাদেরও বয়স রুবেলের তরুণ। খাজুরা বাজার বাসস্ট্যান্ড জামে মসজিদের সামনে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।

বাঘারপাড়া থানার ওসি শাহজালাল আলম বলেন, হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে তদন্ত চলছে। অভিযুক্ত ঘটনার পর থেকে পলাতক। তাকে ধরতে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .