Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

চাকরিতে যোগ দিয়ে সাড়ে ৪ বছরই ছুটিতে ইংরেজি প্রভাষক তিথি

Icon

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৪ পিএম

চাকরিতে যোগ দিয়ে সাড়ে ৪ বছরই ছুটিতে ইংরেজি প্রভাষক তিথি

ভবানীগঞ্জ কারামতিয়া ফাজিল মাদ্রাসা।

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ কারামতিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ইংরেজি বিষয়ের প্রভাষক মুনিরা চৌধুরী তিথির বিরুদ্ধে যোগদানের পর থেকে গত সাড়ে চার বছরে একাধিকবার ছুটিতে থাকার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ সময় ছুটিতে থাকায় পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০২২ সালের ২৯ জানুয়ারি শিক্ষক মুনিরা চৌধুরী তিথি ইংরেজি প্রভাষক (ইনডেক্স: ১৯১৭৪) পদে ভবানীগঞ্জ কারামতিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় যোগদান করেন। তার বাড়ি টাঙ্গাইল জেলায়। তার স্বামী  জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। 

যোগদানের পর থেকে তিনি কয়েকবার মানবিক ছুটি নিয়েছেন। গত মে মাসে তিনি মাতৃত্বকালীন ছুটিতে যান। এর আগেও তিনি একবার মাতৃত্বকালীন ছুটিতে ছিলেন। তিনি গত মে ও জুন মাসের বেতনও উত্তোলন করেছেন বলে জানা গেছে।

সোমবার ভবানীগঞ্জ কারামতিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় শিক্ষক মুনিরার খোঁজ নিতে গেলে উপস্থিত শিক্ষকরা কেউই তার বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি। ওই দিন এইচএসসি পরীক্ষার দায়িত্বে থাকায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ইব্রাহিম শামীম প্রতিষ্ঠানে ছিলেন না। এছাড়া কোনো শিক্ষকের কাছেই তার মোবাইল নম্বর নেই বলেও জানিয়েছেন এক শিক্ষক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দাখিলের পাঁচ শিক্ষার্থী জানায়, মুনিরা নামে তাদের একজন ইংরেজি প্রভাষক রয়েছেন। তবে এক দিনের জন্যও তিনি ক্লাশে আসেননি। অন্য একজন শিক্ষক কোনো মতে ইংরেজি বিষয়ে পাঠদান করাচ্ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই শিক্ষক বলেন, তার স্বামী একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। সেই প্রভাবেই মুনিরা বছরের পর বছর মানবিক ছুটি নিয়ে আসছেন। বর্তমানে তিনি মাতৃত্বকালীন ছুটিতে রয়েছেন। এতে ইংরেজি বিষয়ের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।

এ বিষয়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. ইব্রাহিম শামীম বলেন, ডিসি স্যার আমাদের প্রতিষ্ঠানের সভাপতি। রেজুলেশন করেই সাবেক ডিসি মুনিরাকে মানবিক ছুটি দিয়েছেন। তখন তিনি বিনা বেতনে ছিলেন। এর আগে তিনি ছয় মাস মাতৃত্বকালীন ছুটিতে ছিলেন এবং তখন বেতন পেয়েছেন। মানবিক ছুটি শেষে মে মাসে এসে আবার মাতৃত্বকালীন ছুটি নিয়েছেন।

পাঠদান ব্যাহত হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বারবার তাকে বলা হয়েছে। তিনি মাঝেমধ্যে এসেছেন। তবে নিয়মিতভাবে দায়িত্ব পালন করেননি।

লক্ষ্মীপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গৌতম চন্দ্র মিত্র বলেন, শিক্ষিকা মুনিরা বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করে মানবিক ছুটি নিয়ে সময় পার করছেন। মানবিক ছুটি শেষে তিনি বর্তমানে মাতৃত্বকালীন ছুটিতে রয়েছেন। উনার স্বামী সম্ভবত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। তিনি সবাইকে ম্যানেজ করে ছুটি মঞ্জুর করিয়েছেন। সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) তাকে মানবিক ছুটি দিয়েছেন। তবে মানবিক ছুটিকালীন তিনি কোনো বেতন নেননি। শুধুমাত্র মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকাকালীন তিনি বেতন পাচ্ছেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মুনিরা চৌধুরী তিথির মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .