Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুরের ভাস্কর্য ভাঙার কাজ স্থগিত

Icon

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬, ১০:৪২ পিএম

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুরের ভাস্কর্য ভাঙার কাজ স্থগিত

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুরের ভাস্কর্য ভাঙার কাজ স্থগিত

ঝিনাইদহ শহরের প্রবেশমুখে নির্মিত বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর ও ভাস্কর্য ভাঙার কাজ স্থগিত করেছে জেলা প্রশাসন। চত্বরটি ভাঙা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর শনিবার থেকে কাজ বন্ধ রয়েছে।

১৪ জুলাই থেকে ভাস্কর্যটি ভাঙ্গার কাজ শুরু করা হয়। ভারি ভারি যন্ত্রপাতি নিয়ে শ্রমিকরা ১৭ জুলাই শুক্রবার পর্যন্ত ভাঙচুর করেন। কিন্তু নির্দেশদাতার নাম প্রকাশ্যে আসে না। আবার ভাঙার কাজ কারা বন্ধ করেছে তাও জানা যায়নি।

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের মেজো ভাই হামরুর রহমানের ছেলে হাফিজুর রহমান এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে যথাস্থানে ভাস্কর্যটি স্থাপন করার দাবি তুলেছেন। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও অনুরূপ দাবি জানানো হয়েছে।

রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ঝিনাইদহ ইউনিট কমান্ডের পক্ষ থেকে ৫ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বাক্ষর করে জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেনের কাছে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে; কিন্তু রহস্যজনকভাবে নির্দেশদাতাকে আড়াল করতে ওই স্মারকলিপিতে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ম্যুরাল অপসারণপূর্বক উপযুক্ত জায়গাতে প্রতিস্থাপনের দাবি জানানো হয়েছে।

এদিকে শনিবার (১৮ জুলাই) থেকে ভাস্কর্য ভাঙার কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বেদির বড় অংশ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে; কিন্তু মূল ভাস্কর্যটি যেমন ছিল তেমনই আছে।

সরেজমিন জেলা শহরের প্রবেশ মুখে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার ৪ রাস্তার মোড়ে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর কয়েক দফায় পরিদর্শন করা হয়। বিকালের দিকে দেখা যায় ভাস্কর্যর পাশে আগাছার আড়ালে পাথরে খোদাই করা একটি স্টোন লটকানো। ওই পাথরে খোদায় করে স্পষ্ট লেখা বীর শ্রেষ্ঠ হামিদুর চত্বর। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন সরোজ কুমার নাথ জেলা প্রশাসক ঝিনাইদহ ও আলহাজ সাইদুল করিম মিন্টু মেয়র ঝিনাইদহ পৌরসভা। বাস্তবায়নে প্রকৌশল বিভাগ ঝিনাইদহ পৌরসভা।

ঝিনাইদহ পৌরসভার প্রশাসক রথীন্দ্র নাথ রায় জানান, ভাস্কর্যটি নির্মাণ সংক্রান্ত ফাইল খোঁজাখুঁজির পরেও পাওয়া যাচ্ছে না।

তিনি আরও জানান, ভাস্কর্যটি ভাঙার বিষয়ে কিছুই জানা নেই তার।

পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী রাশেদ জানান, ভাস্কর্যটি পৌরসভার নিজস্ব অর্থে নির্মাণ কাজ করা হয়েছে- এমন খবর সঠিক। তবে এ সংক্রান্ত নথিপত্র খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী সেলিম রেজা জানান, ভাস্কর্য ভাঙার বিষয়ে জেলা পরিষদ কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি। লেবার খরচও দেওয়া হয়নি। পৌর কর্তৃপক্ষেরও একই বক্তব্য।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে ঝিনাইদহের বর্তমান জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন জানান, ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক (এন-৭) ৬ লেন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। সেই কারণে ভাস্কর্যটি অপসারণ করা হচ্ছে। পরবর্তীতে সুবিধাজনক স্থানে ভাস্কর্যটি পুনর্নির্মাণ করা হবে বলে জানান বলে জানান তিনি।

জানা যায়, ওই সময় ভাস্কর্যটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৩২ লাখ টাকা। পৌরসভার রাজস্ব খাত থেকে দরপত্র আহ্বান করে ঠিকাদারে মাধ্যমে কাজ শুরু করা হয়। পাথর দিয়ে কংক্রিটের ঢালাই দিয়ে বিশাল বেদি তৈরি করা হয়; কিন্তু নিয়োগ করা ভাস্কর কিছুতেই হামিদুর রহমানের মুখাকৃতি খোদাই করতে পারে না। থমকে যায় নির্মাণ কাজ। ভাস্কর্যটি পূর্ণাঙ্গ রূপ না পাওয়ায় অযত্ন আর অবহেলায় পড়ে থাকে দীর্ঘদিন। ভাস্কর্যটির উচ্চতা ছিল প্রায় সাড়ে ৬ ফুট।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী ভাস্কর্যটি শেখ মুজিবুর রহমানের- এমন প্রচার হওয়ার পরে ভেঙে ফেলার জন্য পাঁয়তারা করে একটি মহল। পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে ভাস্কর্যটি ভেঙে ফেলতে চাপ সৃষ্টি করে মহলটি।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .