চার্জশিটে সব আসামি বাদ!
বড়লেখা ভূমি অফিসের রেকর্ড জালিয়াতি মামলা
বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০:৪২ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বড়লেখা উপজেলা ভ‚মি অফিসের খতিয়ান জালিয়াতি মামলার সব আসামিকে বাদ দিয়ে আদালতে তদন্ত কর্মকর্তার চার্জশিট দাখিলে উপজেলাজুড়ে রহস্য ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তা যেখানে অনুসন্ধান চালিয়ে ভূমি অফিসের ভেতরের ও বাইরের জালিয়াত সিন্ডিকেটকে শনাক্ত করে বিচারের আওতায় নিয়ে আসবেন, সেখানে মামলার অভিযোগ থেকে সব আসামিকে বাদ দিয়ে তাদের (আসামিদের) প্রশংসা ও সাফাই গেয়ে গত এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
রহস্যজনক এ চার্জশিটে বিভিন্ন মহলে তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, উপজেলার গাজীটেকা-আইলাপুর এলাকার ভূমি মালিক আব্দুল জব্বার গং ২০১৯ সালে একটি খতিয়ানের দুটি দাগের কিছু জমি নামজারি করেন।
এসিল্যান্ড অফিসের অসাধু সিন্ডিকেট মোটা অঙ্কের উৎকোচের বিনিময়ে বিভিন্ন খাস খতিয়ানের ভূমি জাল কাগজের মাধ্যমে ব্যক্তিমালিকানায় রেকর্ডভুক্ত করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় ভূমি অফিসের অসাধু সিন্ডিকেট আব্দুল জব্বার গংয়ের ভূমির সঙ্গে সরকারি ১/১ খতিয়ানের ‘খ’ তফসিলের আরেকটি দাগের ১২ শতাংশ ভূমি তৎকালীন এসিল্যান্ডের স্বাক্ষর জাল করে ভলিউমে রেকর্ড (নামজারি) করে রাখেন।
শুধু তাই নয়, সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মজিদ মিয়া ভুয়া কাগজে নামজারিকৃত ওই খতিয়ানের ভূমি উন্নয়ন করও পরিশোধ করেন। গত বছরের ৭ মে রেকর্ড পর্যালোচনায় বিষয়টি এসিল্যান্ড আসলাম সারোয়ারের নজরে এলে তাৎক্ষণিক তিনি অভিযুক্তদের অফিসে ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা জালিয়াতির কথা স্বীকার করায় তাদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।
খতিয়ান জালিয়াতির ঘটনায় সার্ভেয়ার শামছুল হুদা ও সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার মজিদ মিয়ার প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা থাকলেও রহস্যজনকভাবে সার্ভেয়ারকে বাদী এবং তহশিলদারকে সাক্ষী করে ভূমি মালিক আব্দুছ ছাত্তার, আব্দুল জব্বার, আব্দুল কুদ্দুছ, ভূমি অফিসের কর্মচারী রাসেন্দ্র কুমার দাস ও কাব্য চন্দ্রকে আসামি করে থানায় জালিয়াতি মামলা করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরবর্তীতে আসামিদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। রেকর্ড জালিয়াতিতে ভূমি অফিসের আর কারা জড়িত তাদের ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার কথাও তদন্ত কর্মকর্তা তখন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।
দীর্ঘদিন কারাবাস করে আসামিরা জামিনে মুক্তি পান। বদলিজনিত কারণে ইতোমধ্যে দুজন তদন্ত কর্মকর্তার পরিবর্তন হয়। সর্বশেষ থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই প্রলয় রায় চাঞ্চল্যকর এ মামলাটির সব আসামিকে বাদ দিয়ে গত ২৩ এপ্রিল চার্জশিট অগ্রবর্তী করেন। ওই চার্জশিটে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই প্রলয় রায় আসামিদের অপরাধ বিষেষণ না করে বরং তাদের প্রশংসা আর সাফাই গাইতেই বেশি তৎপর ছিলেন।
তদন্ত কর্মকর্তার এমন চার্জশিটে সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে, একজন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসলাম সারোয়ার কী তাহলে তার অফিসের দুই কর্মচারী এবং তিনজন ভূমি মালিকের বিরুদ্ধে হয়রানির উদ্দেশে মামলা করালেন। তাদের চারজনকে আটক করে পুলিশে দিলেন। তারা দীর্ঘদিন কারাবরণ করল কার দোষে? এ ব্যাপারে তদন্ত কর্মকর্তা
এসআই প্রলয় রায় বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়ার মতো তেমন কোনো এভিডেন্স তিনি পাননি। বাদী চাইলে আদালতে চার্জশিটের বিরুদ্ধে নারাজি দিতে পারেন।
