৩০ বছরের জলাবদ্ধতার অবসান, জামালপুরে ২ হাজার একর জমিতে হবে চাষ
জামালপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৭:০১ পিএম
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা দুটি পানি নিষ্কাশন ড্রেন পুনরায় চালু
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জামালপুর সদর উপজেলায় দীর্ঘ প্রায় তিন দশকের জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে অবশেষে স্বস্তি পেতে শুরু করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে মানুষের ভোগান্তি কমার পাশাপাশি প্রায় ২ হাজার একর কৃষিজমিতে আবারও ফসল উৎপাদনের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়, দীর্ঘ তিন দশক ধরে পানি নিষ্কাশনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ড্রেন বন্ধ থাকায় জামালপুর সদর উপজেলার হরিপুর, দড়িফতেহপুর, মাছিমপুর, বগালী ও মাঝিপাড়া গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়ত।
এর ফলে ওই পাঁচ গ্রামের কৃষকরা নিয়মিত চাষাবাদ করতে পারতেন না। বছরের পর বছর ২ হাজার একরের বেশি আবাদি জমি অনাবাদি পড়ে থাকায় কৃষকরা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন। পাশাপাশি জলাবদ্ধতার কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচল ও দৈনন্দিন জীবনও দুর্বিষহ হয়ে ওঠে।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা দুটি পানি নিষ্কাশন ড্রেন পুনরায় চালু করায় এলাকায় জলাবদ্ধতা কমতে শুরু করেছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে এবং অনাবাদি কৃষিজমিতে আবারও ফসল উৎপাদনের আশা জেগেছে।
এ অবস্থায় স্থানীয়দের দাবি ও দুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে জামালপুর সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন মিলন ও পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ আব্দু্ল্লাহ আল মাসুদ উদ্যোগ নেন। তাদের তত্ত্বাবধানে বন্ধ হয়ে থাকা দুটি ড্রেনের পানি চলাচলের পথ উন্মুক্ত করা হয়। ফলে জমে থাকা পানি দ্রুত নিষ্কাশিত হতে শুরু করেছে এবং কৃষিজমি ধীরে ধীরে চাষাবাদের উপযোগী হয়ে উঠছে।
এলাকার কৃষকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার কারণে তারা বোরো, আমনসহ বিভিন্ন মৌসুমের ফসল উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা হওয়ায় এবার তারা নতুন করে চাষাবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এতে কৃষি উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি এলাকার অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তাদের প্রত্যাশা।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, দীর্ঘ ৩০ বছরের একটি জটিল সমস্যার সমাধানে নেওয়া এ উদ্যোগ এলাকায় স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। তারা পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা স্থায়ীভাবে সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।
